মূল রচনা থেকে অংশ:

ব্যাপারটা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। মাস্টার ফিরে না-আসা পর্যন্ত কিচ্ছু পরিষ্কার হবেনা।মতি বিডি ধরিয়ে টানতে লাগল। সে জয়নাল মিয়ার সামনে বিড়ি খায় না। এইকথা তার মনে রইল না। সময়টা খারাপ। এই সময় কোনো কিছু মনে থাকে না। ছোটচৌধুরীও সিগারেট ধরালেন। তিনি সকাল থেকেই ঘামছেন।"নাহ্‌, ভয়ের কি? এরা বাঘও না, ভালুকও না।'“একেবারে খাটি কথা।:“অন্যায় তো কিছু করি নাই। অন্যায় করলে একটা কথা আছিল।'“একেবারে খাঁটি কথা। অতি লেহ্য কথা।?জয়নাল মিয়া উৎসাহিত বোধ করে। মতি বলল, "নীলু চাচার বাড়িত ফাই চলেন।?কথাটা তার খুব মনে ধরে। কিন্তু জাজিজ মাস্টার ফিরে না-আসা পধ্ন্ত নড়তেও হচ্ছেকরে না। রোদ চড়তে শুরু করে। ছাতিম গাছের নিচে একটি দুটি করে মানুষ জমতেশুরু করে। সবার মধ্যে একটা! চাপা উত্তেজনা । ঝা-ঝা করছে রোদ।উত্তর বন্দে বোরো ধান পেকে জাছে। কাটতে হবে। কিছু-কিছু জমিতে পাটদেওয়া হয়েছে! খেত নিড়ানির সময় এখন। দক্ষিণ বন্দে আউশ বোনা হবে। কিন্তু আজমনে হয় এ-গ্রামের কেউ কোথাও যাবে না। আজকের দিনটা চাপা উত্তেজনা নিয়েসবাই অপেক্ষা করবে৷ এ-গ্রামে বহুদিন এ-রকম ঘটনা ঘটে নি।বদিকে দেখা গেল ফর্সা জামা গায়ে দিয়ে হনহন করে আসছে। তার বগলে ছাতা।হাতিম গাছের নিচে একসঙ্গে এতশুলি মানুষ দেখে হকচকিয়ে গেল।"বিষয় কি?”মতি গিয়া ঠাণ্ডা গলায় কলল, "জান না কিছু?“কী জানুম?“আরে মুসিবত! জান লইয়া টানাটানি, আর-_কিছুই জান না?বদি চিন্তিত ভঙ্গিতে তাকায়। কিছু বুঝতে পারে না। জয়নাল খ্রিয়া ঠাণ্ডা গলায়ণলে, "গেরামে মিলিটারি আইছে।'“এইটা কী কনঃ এইখানে মিলিটারি আইব ক্যান?'ক্ুলঘরে গিয়া নিজের চউক্ষে দেখ। আজিজ মাস্টার্রে রাইখ্যা দিছে।?এযা!ঃ“আজ মধুবনে গিয়া কাম নাই, বাভ়িত যাওড।?বদি রাস্তার উপর বসে পড়ে। ফিসফিস করে বলে, “কী সর্বনাশ!জয়নাল মিয়া বিরক্ত হয়ে বলে, "সর্বনাশের কী আছে? আমরা কী করলাম? কিছু1এছি আমরা?বদি মুখ লম্বা করে বসে থাকে। একসময় মৃদু স্বরে বলে, "মুসলমানের জন্যে“য়ের কিছুই নাই। এরা মুসলমানদের খুব খাতির করে। তবে পাক্কা মুসলমান হওয়া11গে| চাইর কলমা জিজ্ঞেস করে।সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। চার কলেমা কারো জানা নেই। বদি উৎসাহিত“য় বলে, 'সুঘত হইছে কি না এইটাও দেখে। কাপড় খুইলা দেখে।;ক)