মূল রচনা থেকে অংশ:
তাদের অনেক বার বলা হয়েছে, 'এই সামান্য লতা জাতীয় গাছগুলি দিয়েতোমরা কী করবে £'রোবটরা উত্তর দিয়েছে, “আমরা কী করব সেটা আমাদের ব্যাপার । হাইপারস্পেস ডাইভ সংক্রান্ত টেকনলজির বিনিময়ে তোমরা ঘদি উদ্ভিদ দাও দেবে, যদি নাদিতে চাও দেবে না। এর বাইরের যাবতীয় কথাবার্তাই আমরা বাহুল্য মনে করি।এবং আমরা বাণিজ্য-সম্পর্কহীন প্রশ্নের কোনো জবাব দেব না।'এইসক খবরের সবই আমি পেয়েছি তিশ-২ রোবটের কাছ থেকো সেক্রমাগতই কিছু-না-কিছু তথ্য আমাকে দিতে চেষ্টা করছে। এবং আমার ধারণা এটাসে করছে মহাকাশের ব্যাপারে আমার আগ্রহ বাড়ানোর জন্যে ।সে আমার ভেতর কৌতৃহল জাগিয়ে ভুলতে চাচ্ছে। কৌতুহল হচ্ছেজীবনদায়িনী শক্তির মতো, যা আমাদের বেঁচে থাকতে সাহাষ্য করে । আমার মধ্যেকৌতূহলের কিছুই অবশিষ্ট নেই। জীবন আমার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।একজন রোবটের সঙ্গে আমি আমার কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না। এইঅবস্থাতেই মানুষ আত্মহননের কথা চিন্তা করে । আমিও করছিলাম ।তিশ তা বুঝতে পেরেছে। সে এই কারণেই প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে আমার মধ্যেকৌতূহল নামক সেই জীবনদাযিনী ব্যাপারটি জাগিয়ে তুলভে। ভার কিছু কিছু চেষ্টাআমার খুব ছেলেমানুষী বলে মনে হয়! যদিও জানি ছেলেমানুষী কোনো ব্যাপার তিশ-২-এর যতো উন্নত রোবট কখনো করবে না । তিশ যা করছে খুব ভেবে-চিন্তেই করছে।সে ব্যবহার করছে রোবটদের লজিক, আবেগবর্জিত বিশুদ্ধ লজিক। এর ভেতর কোনোফীকি নেই। একদিন...এই যা, দিন শব্দটা ব্যবহার করলাম ! দিন এবং রাত বলেমহাকাশযানে কিছু নেই । এখানে যা আছে তার নাম অনন্ত সময় । যে কথা বলছিলাম,এক দিন তিশ এসে বলল, “মহাকাশযানে একজন জীব-বিজ্ঞানী আছে তা কি তুমি জান ?আমি বললাম, “জানি ।”তুমি তার সঙ্গে আলাপ কর না কেন ? তার সঙ্গে কথা বললে তোমার খুবভালো লাগবে ।''কারৌ সঙ্গেই কথা বলতে আমার ভালো লাগে না।'“যে জীববিজ্ঞানীর কথা বলছি তার বয়ন কম এবং সে একজন অত্যন্ত রূপবতীতরুণী ।'তাতে কি £'“হাসিখুশি ধরনের মেয়ে । সবাই তাকে পছন্দ করে ।”"খুবই ভালো কথা ।'“এই তরুণীর গলার স্বরও খুব মিষ্টি | শুধু শুনতে ইচ্ছা করে ।*'বেশ তো, শুনতে ইচ্ছা করলে শুনবে |'আমি প্রায়ই শুনি । রোবট হওয়া সত্তেও আমি এই মেয়েটির প্রাতি এক ধরনেরআবেগ অনুভব করি ।'