মূল রচনা থেকে অংশ:

দে।চিনি নাই । চিনি ছাড়া চা।দে একট্ু।সুবল তাকিয়ে দেখল তার বাবার চোখ দিয়ে জল পড়ছে। ব্যাপারটা কী?সে আড়চোখে তাকাতে লাগল ।তিনশ টাকা না পেলে বেইজ্জত হব!সুবল কথাটা বলেই মাথা নিচু করে ফেলল । এবং লক্ষ করল তার নিজেরচোখও ভিজে উঠছে। সে হঠাৎ বলে ফেলল, বড় কষ্ট বাবা।কষ্ট! হ্যা কৃষ্ট তো বটেই। প্রণব বাবু ছোট্ট একটি নিঃশ্বাস ফেললেন ।টাকাটার কি জোগাড় হবে ?প্রণব বাবু জবাব দিলেন না। চোখ মুছলেন। সুবল বাবার কাছে সরেএলো। প্রণব বাবু হঠাৎ কী মনে করে সৃবলের একটি হাত চেপে ধরে সশব্দেফুঁপিয়ে উঠলেন । সুবল বলল, কাদবে না বাবা । দেখি একটা ব্যবস্থা করব আমিনিজেই । কাদবে না।মেয়েটারে বড় দেখতে ইচ্ছা হয় সুবল।তিনি দু লক্ষ টাকার একটি টিকিট পকেটে নিয়ে একজন নিঃস্ব মানুষেরমতো কাদতে লাগলেন । সুবল বাবাকে দু'হাতে জড়িয়ে ধরে বসে রইল । তিনশটাকার তার সত্যি খুব প্রয়োজন ছিল। সুবলের ডাক ছেড়ে কাদতে ইচ্ছা হচ্ছিল।কিন্তু সে কাদল না। উদাস গলায় বলল, চিন্তার কিছু নাই বাবা, সব ঠিক হয়েযাবে।প্রণব বাবু ধরা গলায় বললেন, কিছুই ঠিক হয় না রে। তার কথা সমর্থনকরেই ঘরের ভিতর থেকে একটি তক্ষক ডেকে উঠল । চারদিকে মাছের চোখেরমতো মরা জ্যোতম্না।