মূল রচনা থেকে অংশ:
দীড়িয়েও আছে মূর্তির মতো। একটুও নড়ছে না। চোখের দৃষ্টিও ফিরিয়ে নিচ্ছে না।মিসির আলি বললেন, 'কেমন আছ তিন্নি?মেয়েটি মিস্টি করে হেসে বলল, 'ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন?“হ্যা, তালোই আছি।;“আপনাকে গেট খুলে দেয় নি, তাই না?মিসির আলি উপরে উঠতে উঠতে বললেন, "দারোয়ান ব্যাটা বেশি সুবিধার না।কিছুতেই গেট খুলল না।?“দারোয়ান ভালোই! বাবার জন্যে খোলে নি। বাবা গেট খুলতে নিষেধ করেছেন।“তাই নাকি?“হ্যা। বাবার ধারণা, গেট খুললেই আমি চলে যাব।,তুমি বুঝি শুধু চলে যেতে চাও?“না, চাই না। কিন্তু বাবার ধারণা, আমি চলে যেতে চাই।”মেয়েটি আবার মাথা দুলিয়ে হাসল। মেয়েটি এই দারুণ শীতেও পাতলা একটাজামা গায়ে দিয়ে আছে। খালি পা। মনে হচ্ছে সে শীতে অল্প অল্প কীপছে!“তিমি, তোমার শীত লাগছে না?নাঃ,“বল কী! এই প্রচণ্ড শীতে তোমার ঠাণ্ডা লাগছে না?“না। আপনি নাশতা খেতে যান। বাবা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। দেরি হচ্ছেদেখে মনে-মনে রেগে যাচ্ছে।?“তাই বুঝি?""হ্যা, তাই!”মেয়েটি হাটতে শুরু করল। ধবধবে সাদা রঙের ফ্রকে তাকে দেবশিশুর মতোলাগছে। মিসির আলি মেয়েটির প্রতি গাঢ় মমতা বোধ করলেন! তীর ইচ্ছে করলমেয়েটিকে কোলে তুলে নিতে। কিন্তু এ-মেয়ে হয়তো এ-সব পছন্দ করবে না। একেদেখেই মনে হচ্ছে, এর পছন্দ-অপছন্দ খুব তীব্র।নাশতার আয়োজন প্রচূর।রুটি মাখন থেকে শুরু করে চিকেন ফ্লাই, ফিস ফ্রাই সবই আছে। বিলেতিকায়দায় দু” জনের সামনেই এক বাটি করে সালাদ। লম্বা-লম্বা গ্রাসে কমলালেবুর রস।রাজকীয় ব্যাপার! শুধু খাবারদাবার এগিয়ে দেবার জন্যে কেউ নেই। বরকত সাহেবঠাণ্ডা গলায় বললেন, “বসে আছেন কেন? শুরু করুন।”“তিন্নির জন্যে অপেক্ষা করছি।”ও আসবে না!“আসবে না কেন?'খেয়ে নিয়েছে। আমার মেয়ের সঙ্গে কি আপনার কথা হয়েছে?খহ্যাঁ।'কেমন দেখলেন আমার মেয়েকে?'ডালো।”বরকত সাহেব তীক্ষু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন খানিকক্ষণ! নিচু গলায় বললেন,১৩