Asmanira Tin Bon

মূল রচনা থেকে অংশ:

জামদানী উৎফুল্ল গলায় চেঁচিয়ে উঠল, কান্দন বন্ধ হইছে। কান্দন বন্ধতাকাচ্ছে। ্‌আসমানী বলল, বাপজান, তোমারে দেখে । তোমারে দেখে।জমির আলী বলল, কী দেখসরে বেটি ? আমি কে__-ক দেহি। আমি তোরপিতা জমির আলী । তোর মাতার নাম আছিয়া। দুই ভইনের একজনের নামআসমানী, আরেকজনের নাম জামদানী । আমাদের সবেরে যে সৃষ্টি করেছেনতার নাম আন্মাহ। সাত আসমানের উপরে তার সিংহাসন ।জামদানী বলল, তোমার সব কথা শুনতাছে। মনে হয় বুঝতাছে।জমির আলী গন্তীর গলায় বলল, বুঝনের কথা । শিশুরা ফিরিশতার সামিল।ফিরিশতা কথা বুনান্‌ ন। এইটা কেখন। থা £ আমর পয়সা আম্মা সব বুঝতাছে।বুঝতাছ না মাঃকী আশ্চর্য কথা, পিচকি চোখ মিটমিট করছে! পাখির পালকের মতোএকটা হাত এণিয়ে দিল বাবার মুখের দিকে । আসমানী উত্তেজিত গলায় বলল,বাপজান, তোমার নাক ধরতে চায় ।জমির আলী নাক বাড়িয়ে দিয়ে হৃষ্ট গলায় বলল, ধর বেটি নাক ধর।আছে।কন্যা নিয়ে উল্লাস দীর্ঘস্থায়ী হলো না। সন্ধ্যা নামার পর পর সে কীদতে .শুরু করল । দিনও খারাপ করল । ঝুঁম বৃষ্টি । মাঝে মাঝে বাতাস দিচ্ছে। বাতাসেঘরের চালা নড়বড় করছে। বাড়ি-ঘরের যে অবস্থা বাতাসের বেগ আরেকটুতাকাচ্ছে না। সে ভেতরের বারান্দায় মাদুর পেতে বসে আছে । মনে হচ্ছে গভীরআগ্রহে সে ঝড়-বৃষ্টি দেখছে। আসমানী মায়ের কাছে এসে ভয়ে ভয়ে বলল,আছিয়া বলল, কান্দুক। কান্দনের কপাল নিয়া আসছে, কানব না তো কীকরব!মনে হয় ক্ষিধা লাগছে।তোর বাপরে দুধ খাওয়াইতে ক। আমি আর ঝামেলার মইদ্যে নাই।বাচ্চার কান্নার চেয়েও যে দুশ্চিন্তা জমির আলীকে কাতর করে ফেলল সেটাদিনের অবস্থা । ভাবভঙ্গি মোটেই সুবিধার না। অনেক দূর থেকে গুম গুম শব্দআসছে। সবাইকে নিয়ে কেরামতের পাকা দালানে চলে যাওয়া দরকার |১৩