মূল রচনা থেকে অংশ:
অবশ্যই খাবে। মিলি একে নিয়ে ফ্যানের শীচে বসা। কাদের এগিয়ে এসে বলল, আমারে ধইর।ধইরা হাঁটেন ডাক্তার সাব। চিন্তার কিছু নাই, উপরে আল্লা নীচে মাড়ি।নীচে মাটি এমন কোন লক্ষণ মনসুর পাচ্ছে না। তার কাছে মনে হচ্ছে সে চোরাবালিরউপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। পা ডেবে ডেবে যাচ্ছে। ঘর্টাও মনে হচ্ছে একটু একটু দুলছে। কে যেনবলল, “বাবা তুমি এখানে বস।'কে বলল কথাটা? এঁ মহিলা না? ইনি বোধ হয় মিলির মা। তাকে কি সালাম দেয়াহয়েছে? শ্লামালিকৃম বলা দরকার না? দেরী হয়ে গেছে বোধ হয়। দেরী হলেও বলা দরকার।“নিন পানি নিন।'মনসুর পানি নিল। নিয়েই ক্ষীণ স্বরে বলল, শ্লামালিকুম। বলেই বুঝল ভূল হয়ে গেছে। কথাএমন জিনিস একবার বলা হয়ে গেলে ফিরিয়ে নেয়া যায় না। মনসুর লক্ষ্য করল তার চারপাশেদাঁড়িয়ে থাকা লোকজন মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে নে নিশ্চয়ই খুব উল্টা পাল্টা কিছু বলেছে।টেনশনের সময় তার মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। মনসুর অবস্থা স্বাভাবিক করবার জন্যে শব্দকরে হাসল। অবস্থা স্বাভাবিক হল না মনে হল আরো খারাপ হয়ে গেল।ফরিদ বলল, ছোকরার মনে হয় ব্রেইণ ভিফেন্ট হয়ে গেছে। কেমন করে হাসছে দেখুন নাদুলাভাই। অবিকল পাগলের হাসি। সোবাহান সাহেব বললেন, একজন ডাক্তারকে খবর দেয়াদরকার।ফরিদ বলল, ডাক্তার কিছু করতে পারবে বলেতো মনে হচ্ছে না। আমার ধারণা ব্রেইণহেমারেজ। হোয়াট এ পিটি, এ রকম ইয়াং এজ।৮৮]আনিস অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছে ভয়ংকর একটা রাগের ভঙ্গি করতি। যা দেখে তার আটবছরের হেলে টগর আতকে উঠবে এবং মুখ কাচ্মাহ করে বলবে, আর করব না বাবা। টগর যাকরেছে তাকে ক্ষমা করার কোন প্রশ্নই উঠে না। সে ফায়ার ব্রিগেড খেলা খেলছিল। আগুনছাড়া এরকম খেলা হয় না, কাজেই অনেক কষ্টে সে বিহবানার চাদরে আগুণ ধরাল। তাকেসাহায্য করছিল তার ছোট বোন নিশা যার বয়স পাঁচ হলেও এই জাতীয় কাজ খুব ভাল পারে।খেলার দু'টি অহশ, প্রথম অংশে বিছানার চাদর এবং জানালার পদয়ি আগুন লেগে যাবে, নিশাতার খেলনা টেলিফোন কানে নিয়ে বলবে, হ্যালো, আমাদের বাসায় আগুন লেগে গেছে। ভখনশুরু হবে খেলার দ্বিতীয় অংশ-টগর সাজবে ফায়ার ম্যান। বাথরুম থেকে নল দিয়ে সে পানিএনে চারদিকে হিটিয়ে আশুন নেতাবে। বেশ মজার খেলা।খেলার প্রথম অংশ ভালমত শুরু হবার আগেই ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেল। তিন তলারভাড়াটে ছুটে এলেন। একতলা থেকে বাড়িওয়ালা এলেন এবং ঘন ঘন বলতে লাগলেন, কিসর্বনাশ ! কি সর্বনাশ !আনিস গিয়েছিল বাড়ির খোঁজে। বাড়িওয়ালা নোটিশ দিয়েছে। গত মাসেই বাড়ি হাড়ারকথা। এখনো কিছু পাওয়া যায়নি বলে বাড়ি ছাড়া যাচ্ছে না। বাড়িওয়ালার ভাবতঙ্গি দেখে মনেহচ্ছে এবার তিনি আর মুখের কথা বলে সময় নষ্ট করবেন না। পাড়ার ছেলেপুলে দিয়ে তৃলে'দেবেন। গত সপ্তাহে খুব ভদ্র ভাষায় এ জাতীয় ইংগীত দেয়াও হয়েছে।0
Recent Comments