মূল রচনা থেকে অংশ:
“আপনি এত সুন্দর কেন? যে আমার চেয়েও সুন্দরী, তাকে আমার ভালোলাগে না।'রান্ কী বলবে ভেবে পেল না। মেয়েটি হাসতে হাসতে বলল, “আমাদেরক্লাসের মেয়েদের কি ধারণা, জানেন? তাদের ধারণা, আমি হচ্ছি বাংলাদেশেরসবচেয়ে সুন্দরী মহিলা । ওদের এক দিন এনে আপনাকে দেখিয়ে দেব ।ঠিক আছে, দিও । আরেকটু বস। চা খাবে?''না, চা আমি বেশি খাই না। বেশি চা খেলে গায়ের রঙ ময়লা হয়ে যায় ।'মেয়েটি যেমন হুট করে এসেছিল, তেমনি হুট করে নিচে নেমে গেল । বেশলাগল রানুর । নতুন বাসাটা তার ভালোই লাগছে । পুরোনো ঢাকায় হলেও বেশনিরিবিলি ৷ মালিবাগের বাসাটার মতো নয়। নিঃশ্বাস নেবার জায়গা ছিল নাসেখানে । পাশ দিয়ে রাত-দিন রিকশা যাচ্ছে, গাড়ি যাচ্ছে। জঘন্য! এই বাসাটাভেতরের দিকে । বাড়িঅলা ভদ্রলোকও বেশ ভালোমানুষ । প্রথম দিনেই আনিসকেভাড়া। টাকা যথেষ্ট আছে। তবু দুই ঘর ভাড়াটে রাখি। কারণ এত বড় বাড়িতেমানুষ না-থাকলে ভালো লাগে না। কবরখানা-কবরখানা ভাব চলে আসে । তবেসবাইকে আমি বাড়ি ভাড়া দিই না। আপনাকে দিচ্ছি, কারণ আপনাকে পছন্দহয়েছে।'ভাড়াও খুব কম । মাত্র ছয় শ' টাকা । তিন-রুমের এত বড় একটা বাড়ি ছয়শ' টাকায় পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার । রানু এখানে এসে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। তারসবচেয়ে পছন্দ হয়েছে বাথরুম | বড় ঝকঝকে একটা বাথরুম । বাসাটা রানুর খুবপছন্দ হয়েছিল । আনিস যখন বলল, “কি, নেব? পছন্দ হয়?'হয়।“ভালো করে ভেবে বল নেব কি না। দুই দিন পর যদি বল পছন্দ না, তাহলেমুশকিলে পড়ব । মালিবাগের বাসাটা ভালো ছিল । শুধু-শুধু বদলালাম ।'“এই বাসাটাও ভালো ।'রানু খুব খুশি মনে নতুন বাসা সাজাল। নিজেই পরদা কিনে আনল, সারারাত জেগে সেলাই করল । তার উৎসাহের সীমা নেই।'বুঝলে রান্, সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকবে । অন্যদের বাসায় যাবে-টাবে।একা-একা থাকার অভ্যেসটা ভালো না। যাবে তো?,যাব।“একা থাকলেই মানুষের মধ্যে নানান রকম প্রবলেম দেখা যায়, বুঝলে? সবভাড়াটেদের সঙ্গে খাতির রাখবে ।'২৩