Ele-Bele-2

মূল রচনা থেকে অংশ:

সব তো আর পাওয়া যায় না।তৃতীয় দিন থেকে ক্লাস শুরু হল। চল্লিশজন করে একটা ক্লাসে। সকাল নটাথেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত ক্লাস। বিকেল আড়াইটা থেকে টিউটোরিয়েল। প্রতিগ্রুপে সাতজন করে। পড়ানোর কায়দাও নতুন ধরনের । ব্যঞ্জনবণ দিয়ে শুরু।স্বরবর্ণগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সাথেই আসছে। যেমন প্রথম দিনে শেখানো হল “ক' এবং'কা”। সকাল নষ্টা থেকে দুপুর বারটা পর্যস্ত সবাই এক নাগাড়ে পড়ছে “ক” কি”'কা”, 'কা"। দ্বিতীয় দিনে কি” “কি” কু” কৃতিবন্যার্তরা ক্যাপারটায় যনে হল বেশ মজা পেল। যখন ক্লাস হচ্ছে না, রাতেঘুমুঝার আয়োজন হচ্ছে তখনো দেখা গেল এরা নিজেদের মধ্যে নতুন ভাষায় কথাবলছে।যেমন_'কাকাকিকিকু?গাগা শুপু)।'গিগিগি?'খখখা।,দশম দিন শিক্ষকদের উৎসাহে ভাটা পড়ে গেল। কারণ তারা লক্ষ্য করলেনছাত্ররা শুরুতে কি পড়েছে সব ভূলে বসে আছে। যখন তারা চ চ চা চা পড়ে তখনক ক কা কা ভূলে যায়। আবার যখন ত ত তা ত৷ পড়ে তখন চ চ চা চা ভুলেষায়।এই স্মৃতিশক্তি বিষয়ক সমস্যার কি করা যায় তা বের করবার জন্যেমনোবিদ্যা বিভাগের সভাপতিকে আহ্বায়ক করে একটি জরুরী কমিটি গঠন করাহল এবং কমিটিকে অনতিবিলম্বে সুপারিশমালা৷ পেশ করতে বলা হল।সুপারিশমাল৷ হাতে আসার আগেই অবশ্যি ত্রাণশিবির খালি হয়ে গেল,কারণ এখানে সাহায্য কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষকর৷ নিজেরা যা পারছেনদিচ্ছেন, বাইরের সাহাধ্য নিচ্ছেন না। কার দায় পড়েছে বিনা সাহায্যে কা কা কুকুকরতে?অবশ্যি পচান্তর বছর বয়সের যুনশিগঞ্জের ছমির উদ্দিন মোল্লা একা ঝুলেরইলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার একটা সুযোগ তিনি পেয়েছেন এই সুযোগহারাতে রাজি নন। একটা ডিগ্রী না নিয়ে তিনি যাবেন না।এইসব দেখে আমার ধারণা হয়েছে ভিক্ষুকদের ঘোড়ার মত আমাদেরশিক্ষকদেরও একটা ঘোড়া আছে। দেই ঘোড়াও বিশেষ বিশেষ জায়গা ছাড়া যেতেপারে না। ১