মূল রচনা থেকে অংশ:
থেকে একজন মানুষের চরিত্র খানিকটা বলে দেয়া যায়। কেউ খুব শক্ত করেফিতা বাধে । কারো ফিতা বাধায় টিলাঢালা ভাব থাকে । মিসির আলি লক্ষ করেননি।বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বদলায় ৷ তিনিও সম্ভবত বদলাচ্ছেন । আগের মতোখুঁটিয়ে কিছু লক্ষ করছেন না। মনসুর একটা চেকশার্ট পরে এসেছে । এটা মনেআছে। সাদা কাপড়ে নীল সবুজ চেক। শার্টের বুক পকেটে একটা ফাউন্টেন পেনছিল। ফাউন্টেন পেনের কথা মনে আছে- কারণ আজকাল ফাউন্টেন পেন কেউব্যবহার করে না। ফাউন্টেন পেন কেন, বল পয়েন্ট কলমও কেউ সঙ্গে রাখে না।বল পয়েন্ট কলম যেখানে যাওয়া যাবে সেখানেই পাওয়া যাবে, কাজেই সঙ্গেরাখার দরকার কি।একটা সময় ছিল যখন কলম, ঘড়ি, চশমা এই তিনটি জিনিসকেসাজগোজের অংশ ধরা হতো । ইস্ত্রি করা শার্টের পকেটে থাকবে কলম । চোখেজিরো পাওয়ারের চশমা, হাতে ঘড়ি । রেডিওতে যখন খবর পাঠ করা হবে তখনচট করে হাতঘড়ির সময় মিলিয়ে নেয়াও কালচারের অঙ্গ ছিল। একে বলা হতোরেডিও টাইম । আজকাল কেউ বোধ হয় খবর শুনে ঘড়ির টাইম ঠিক করে না।রেডিও টাইম বলেও বোধ হয় কিছু নেই। রেডিওর পরে অনেক কিছু চলেএসেছে- টিভি টাইম, স্যাটেলাইট টাইম | আচ্ছা মনসুরের হাতে কি ঘড়ি ছিল?মিসির আলি মনে করতে পারলেন না। সম্ভবত ছিল না। থাকলে চোখে পড়ত।কিংবা হয়তো ছিল, তার চোখে পড়েনি । চোখে পড়ার ক্ষমতা কমে গেছে।বার্ধক্য গুণনাশিনী।এই যুবকের মধ্যে বিশেষ কিছু কি আছে যা দিয়ে তাকে আলাদা করা যায়?[0০610170901017 1৮810 পাসপোর্টে যেমন লেখা থাকে, অবশ্যই আছে । থাকতেহবে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই আলাদা । প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ আলাদা ।একজন মানুষের আঙুলের ছাপ পৃথিবীর জীবিত বা মৃত কোনো মানুষের সঙ্গেমিলবে না। গায়ের গন্ধ দিয়েও মানুষকে আলাদা করা যায়। প্রতিটি মানুষেরগায়ের গন্ধ আলাদা । কুকুর মানুষকে তার চেহারা বা কাপড়-চোপড় দিয়ে চেনেনা, চেনে গায়ের গন্ধ দিয়ে ।মিসির আলির চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছে। আধ্যাত্মিক ক্ষমতাধর যুবক কিযাবার আগে তাকে হিপনোটাইজি করে গেছে? সন্ধ্যাবেলায় তার কখনো ঘুমআসে না। আজ কেন আসছে? মিসির আলি কয়েক বারই চেষ্টা করলেন ঘুমের১৯৫
Recent Comments