মূল রচনা থেকে অংশ:
উইকেন্ডগুলিতে বাঙালীরা এস জড়ো হতো আমার বাসায়। কিছু আন্ডার প্র্যাজুয়েট ছেলে, মুরহেড স্টেট ইউনিভার্সিটিরঅংকের প্রফেসার আফসার উদ্দিন সাহেব । সবাই একমত জলিল সাহেবের প্রজেক্টে সাহায্য করতে হবে । বাংলাদেশেরজনগনের পক্ষ হতে প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামরা দায়ের করা হবে । বিদেশী পত্রিকায় জনমতেরজন্যলেখালেখি করা হবে । আমেরিকার ফাগোঁ শহরে আমরা এক সন্ধ্যাবেলায় “আব্দুল জলিল সাম কমিটি গঠন করেফেললাম । আমি তার আহ্বায়ক । আফসার উদ্দিন সাহেব সভাপতি | বিদেশে বসে দেশের কথা ভাবতে বড় ভালো লাগে।সব সময় ইচছা করে একটা কিছু করি।দেশে ফিরলাম ছয় বছর পর।ঢাকা শহর অনেকখকানি বদলে গেলেও জলিল সাহেবের বাড়ির চেহারা বদলায়নি । সেই ভাঙ্গী পলেস্তারা উঠা বাড়ি।সেই নারিকেল গাছ। কড়া নাড়তেই চৌদ্দ পনেরো বছরের ভারী মিষ্টি একটা মেয়ে দরজা খুলে দিলো । অবাক হয়েতাকালো আমার দিকে ।: তুমি কি জলিল সাহেবের নাতনী ?:জ: তিনি বাড়ি আছেন ?: না, দাদু তো মারা গেছে দু বছর আগে।: ও । আমি তোমার দাদুর বন্ধু ।: আসুন ভেতরে বসে বসুন ।আমি বসলাম কিছুক্ষন। মেয়েটির মায়ের সাথে কথা বলার ইচছা ছিল। ভদ্রমহিলা বাসায় ছিলেন না | কখন ফিরবেনতারো ঠিক নেই । উঠে আসবার সময় জিজ্ঞেস করলাম, "তোমার দাদু যে মানুষের সিগনেচার জোগাড় করতেন সেই সবআছে £":জ্বিআছে । কেন?: তোমার দাদু যে কাজটা শুরু করেছিলেন সেটা শেষ করা উচিত তাই না?মেয়েটি খুব অবাক হলো | আমি হাসি মুখে বললাম, "আমি আবার আসবো কেমন ?": জ্বি আচছা।মেয়েটি গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এসে নরম গলায় বলে, "দাদু বলেছিলেন একদিন কেউ না কেউ এই ফাইল নিতেআসবে ।"আর যাওয়া হলো না।উৎসাহ মরে গেল। দেশের এখন নানান রকম সমস্যা । যেখানে সেখানে বোম ফোটে । মুখ বন্ধ করে থাকতে হয় । এরমধ্যে পুরানো সমস্যা টেনে আনতে ইচেছ করে না ।আমি জলিল সাহেব নই। আমাকে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হয়। মীরপুরে একটা পরিত্যক্ত বাড়ি কেনার জন্য নানানধরনের লোকজনদের সাথে কথা বলতে হয়। জলিল সাহেবের মতো বত্রিশ হাজার দরখাস্তের ফাইল নিয়ে রাস্তায়বেরুনোর আমার সময় কোথায় ?জলিল সাহেবের নাতনীটি হয়তো অপেক্ষা করে আমার জন্য । দাদুর পিটিশনের ফাইলটি ধলো ঝেড়ে ঠিকঠাক করে রাখে।এই বয়েসী মেয়েরা মানুষের কথা খুব বিশ্বাস করে।
Recent Comments