Kalo Jadukor

মূল রচনা থেকে অংশ:

আহারে কী সুন্দর তার এই মেয়েটা । শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে।পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর চোখ আল্লাহ্‌ তার এই মেয়েকে দিয়েছেন। কী ঘনকালো চোখ । দীর্ঘ পল্লব । অথচ সুপ্তির এই চোখ কোনো কাজে আসে না। সুপ্তিচোখে দেখে না।মবিন উদ্দিন বললেন জেগে আছিস নাকি মাঃসুপ্তি বললো, না স্বুমোচ্ছি। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দরজা খুললাম ।সুপ্তির বয়স বারো । সে চাদরে শরীর ঢেকে মাথাটা এমন ভাবে বের করেছেযে তাকে অনেক বড় বড় লাগছে। মবিন উদ্দিন ভেবে পেলেন না, মেয়েটা এতরাত পর্যন্ত জেগে আছে কেন, অবশ্যি জেগে থাকায় ভালই হয়েছে__শুরুতেইতীকে স্ত্রীর মুখোমুখি হতে হয়নি । নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়াসুপ্তি তার বাবাকে অনেকবার মা"র রাগ থেকে উদ্ধার করেছে। হয়তো এবারোকরবে । মবিন উদ্দিন নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, মা জেগে আছে £হু | এত রাত হয়েছে আমরা ভেবেছিলাম তুমি আসবে না ।'তুই এত রাত পর্যন্ত জেগে আছিস কেন £সুপ্তি জবাব দেবার আগেই সুরমা চলে এলেন, কঠিন গলায় বললেন, রাতদুপুরে আসার দরকার ছিল কী ? থেকে গেলেই পারতে | খেয়ে এসেছ তো £ছি“দরজা ধরে দাড়িয়ে আছ কেন £ এটা আবার কী রকম ঢং, ভেতরে আস ।'মবিন উদ্দিন ইতস্তত করে বললেন, আমার সঙ্গে একটা ছেলে আছে। ওচারটা ভাত খাবে ।সুরমা গলার স্বর তীক্ষ করে বললেন, তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছিনা। ছেলে আছে মানে কী ? তুমি ছেলে পেয়েছ কোথায় ?'রাস্তায় ম্যাজিক দেখাচ্ছিল । সারাদিন কিছু খায়নি! ভাবলাম চারটা ভাতখাইয়ে দেই ।'“ম্যাজিক ফ্যাজিক দেখানো লোকজন তুমি রাত একটার সময় বাসায় নিয়েআসছ এর মানে কী ? হঠাৎ এত দরদ উলে উঠল কেন £'“একটা ছেলে না খেয়ে আছে ।'“কত জনেইতো না খেয়ে আছে। তাদের কোলে করে বাসায় নিয়ে আসতেহবেঃমবিন উদ্দিন অসহায় দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকালেন । সুপ্তি বাবার সাহায্যেএগিয়ে এল । সে মা'র দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, বাবার ভাততো বাড়াই0)