Megher Chaya

মূল রচনা থেকে অংশ:

শুভ্র, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। বুধবারে। তুই কি বরযাত্রী যাবার জন্যআমাকে একটা গাড়ি দিতে পারবি? __দারোয়ানের কাছে চিঠি জমা দিয়ে সে কলাবাগান রওনা হল হাঁটতে হাঁটতে ।হাঁটতে খারাপ লাগছে না, কিন্তু খিদেটা জানান দিচ্ছে! পেটে অল্প-অল্প ব্যথাওশুরু হয়েছে। ব্যাথাটাকে আমল দেয়া ঠিক হবে না। তাছাড়া তৃচ্ছ শারীরিক সমস্যানিয়ে চিন্তার সময় নেই। মাথার সামনে ভয়াবহ সমস্যা। প্রথম এবং প্রধান সমস্যাহল __ কেয়াকে কোথায় এনে তুলবে? সে নিজে থাকে ছোটমামার বাসায়।সম্ভব না। ছোটমামার বাড়িতে দুষ্টা কামরা। একটায় ছোট মামা-মামী থাকেন।অন্যটায় মামার তিন মেয়ে থাকে। বসার ঘর বলে কিছু নেই। থাকলে কোন সমস্যাছিল না। কয়েকটা দিন সোফায় পার করে দেয়া যেত। কেয়া ঘুমাতে সোফায়, সেমেঝেতে কম্বল বিছিয়ে ।জাহেদ তার মামা মিজান সাহেবকে বিয়ের খবর দিয়েছে পরশু রাতের ভাতখাবার পর। জাহেদ ভয়ে ভয়ে ছিল __ খবর শুনে মামা না জানি কি করেন। তেমনকিছুই করেননি। তিনি দীর্ঘসময় জাহেদের দিকে তাকিয়ে থেকে বলেছেন __ “ও |তিনি হতভভ্ত হয়ে গেছেন, বলাই বাহুল্য। এই অবস্থায় জাহেদ বিয়ে করতে যাচ্ছেকেন? বউকে খাওয়াবে কি? বউ থাকবে কোথায়? __ কিছুই জানতে চান নি।জাহেদের মামী মনোয়ারা বললেন, সত্যি বিয়ে, না ঠাট্টা করছ?জাহেদ বলল, সত্যি সত্যি বিয়ে করছি, মামী। মেয়ের নাম কেয়া। এ বাড়িতেদৃ'বার এসেছে। আপনি হয়ত দেখেছেন। কেয়ার নানি মৃত্যুশয্যায়। তিনি নাতনীরবিয়ে দেখে যেতে চাচ্ছেন আর কেয়ার আপা-দুলাভাইও কেয়াকে আর পুষতেপারবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।'ওরা কি দেখে তোমার কাছে বিয়ে দিচ্ছে __ তোমার আছে কি?জাহেদ কিছু বলল না। মনোয়ারা বললেন _- বউ নিয়ে কোথায় উঠবে?জাহেদ বলল, এখনো কিছু ঠিক করিনি।“জ্বি না।জাহেদ মাথা চুলকে বলল, হি না।মিজান সাহেব ঠিক আগের ভঙ্গিতে বললেন, ও!১৩