মূল রচনা থেকে অংশ:
অনিল কীঠাল গাছের মাথার মুকুটের দিকে তাকিয়ে মন ঠিক করে ফেলল ।দেশটা ঠিকঠাক হলে এই দেশে যা কিছু সুন্দর জিনিস আছে সে তার বাবাকেআর অতসীদিকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখবে । প্রথম ছয়মাস শুধু ঘুরে বেড়াবে ।কোন একটু সুন্দর জিনিসের সামনে বাবাকে দীড় করিয়ে দিয়ে সে বলবে__ বাবাদেখ তো, এর ছবি আকা যাবে কি-না । বাবা মাথা নাড়তে নাড়তে বলবেন,অসন্ভব। অতসীদি খিলখিল করে হাসবে । বাবা বিরক্ত হয়ে বলবেন, হাসছিসকেন মা? সৌন্দর্যের একটা অংশ থাকে, কখনো যার ছবি আকা যায় না। এইগফুর সাহেবের ঘর থেকে কোরান তেলাওয়াতের সুর ভেসে আসছে । তিনিউঠেন অন্ধকার থাকতে থাকতে । নামায পড়েন। নামাযের পরে অনেকক্ষণকোরান তেলাওয়াত করেন। তার গলার স্বর মিষ্টি । পড়েনও খুব সুন্দর করে ।প্রায়ই ভোরে অনিল বারান্দায় দীড়িয়ে শুনে । তার ভালো লাগে । শুধু ভালোলাগে বললে কম হয়, বেশ ভালো লাগে।গফুর সাহেব দরজা খুলে অনিলকে দেখলেন। ক্লান্ত গলায় বললেন, “রাতেঘুম হয়েছিল অনিল ?'জ্ি।'“আমার এক ফোটা ঘুম হয় নি। লারারাত জেগে কাটালাম । খুব খারাপলাগছে । গত রাতেও ঘুমাতে পারি নি। এভাবে দিন কাটালে তো বাচব না। কিছুএকটা করা উচিত ?“কি করবেন ?'“তাই তো জানিনা। করবকি?গফুর সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিচু গলায় বললেন, “তোমার একটাখবর আছে অনিল। কাল বিকেলে একটা ছেলে তোমার খোজে এসেছিল।অনেকক্ষণ তোমার জন্যে অপেক্ষা করে আমাকে চিঠি দিয়ে গেছে। খুবইদুঃসংবাদ । তোমাকে দুঃসংবাদটা কীভাবে দেব বুঝতে পারছিলাম না। রাতে এইজন্যেই ঘুম হয় নি। সারারাত চিন্তা করেছি। এখন মনে হচ্ছে দুঃসংবাদটা দেয়াউচিত । সব মানুষেরই দুঃসংবাদ জানার অধিকার আছে। মন শক্ত কর অনিল।'অনিল তাকিয়ে আছে। গফুর সাহেব তার কীধে হাত রেখে প্রায় অস্পষ্টগলায় বললেন, “তোমার বাবা মারা গেছেন অনিল । এটা সহজভাবে নেয়ারচেষ্টা কর। আরো অসংখ্য মৃত্যু ঘটবে। এগুলো নিয়ে আমরা এখন কোনকান্নাকাটি করব না। দেশ স্বাধীন হোক । দেশ স্বাধীন হবার পর আমরা চিৎকারকরে কীদব । নাও চিঠিটা পড় ।অনিল চিঠি পড়ল । তার চোখ শুকনো । মুখ ভাবলেশহীন ৷ অনিলের মুখেরদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে গফুর সাহেবের চোখে পানি এসে গেছে । তিনিপাঞ্জাবির প্রান্ত দিয়ে চোখ মুছছেন। অনিল ছেলেটিকে তিনি খুবই পছন্দ করেন ।দশজন- ১৯২৮৯
Recent Comments