মূল রচনা থেকে অংশ:
অনেক মধ্যরাত্রিতে যখন অতলম্পশী র্লান্তি আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে তখনমনে হয় আমার হাত ধরে টুকটুক পা ফেলে পরী হাঁটছে।যে-জান্তব পশুশক্তির ভয়ে পরী ছোট ছোট পা ফেলে ত্রিশ মাইল হেঁটে গেছে,আমার সমস্ত ক্ষমতা '€ শক্তি তার বিরুদ্ধে। আমি রাজনীতি বুঝি লা। স্বাধীনতা-টাধীনতা নিয়ে সে-রকম মাথাও ঘামাই না। শুধু বুঝি, ওদের শিক্ষা দিতে হবে।জাফর প্রায়ই বলে, "হুমায়ুন ভাই ইচ্ছে করে চোখ বুজে থাকেন।* হয়তো থাকি।তাতে ক্ষতি কিছু নেই। “আমি কি আমার দায়িত্ব পালন করি নি, জাফর?"মনে মনে এই কথা বলে আমি একটু হাসলাম! জাফরের সঙ্গে আজ ভোরেআমার খানিকট! মন কষাকধি হয়েছে! সে চাচ্ছিল আজকের এই ধ্যাসাইনমেন্টেরনেতৃত্ব যেন আসলাম পায়। জানি না এর পেছনের সত্যিকার কারণচি কি? দলপতিরপ্রতি জাস্থা না থাকা বড়ো বিপজ্জনক! মুশকিল হচ্ছে--আমরা রেগুলার আর্মিরলোকজন নই। আনুগত্য হল একটা অভ্যাস, যা দীর্ঘদিনের ট্রেনিং-এর ফলেমজ্জাগত হয়। রেগুলার আর্মির এক জন অফিসারের অনুচিত হুকুমণ্ড সেপাইরাবিনা দ্বিধায় মেনে নেবে। কিন্তু আমার হুকুম নিয়ে তারা চিন্তা-ভাবনা করবে। পছন্দনা হলে কৈফিয়ত পর্যন্ত তলব করে বসবে। কাজেই আমার প্রথম কাজ ছিল দলেরলোকের আস্থা অর্জন করা। বুঝিয়ে দেওয়া যে, আমার উপর নির্ভর করা যেতেপারে। কিন্তু জামি তা পারি নি। কাপুরুব হিস্ববে ঘার্কা_মারা হয়ে গেছি।যদিও তারা সব সময়ই “হুমায়ুন ভাই, হুমায়ুন ভাই" করে এবং সবাই হয়তোএকটু শ্রদ্ধাও করে, কিন্তু সে-শ্রদ্ধা এক জন যোদ্ধা হিসেবে নয়।আমার প্রথম ভুল হল আমি হাজী সাহেবের মৃত্যুতে সায় দিতে পারি নি।লোকটার নৃশংসতা সম্বন্ধে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না। মৃত্যুদণ্ড যে তার প্রাপ্যশাস্তি, এতেও ভুল নেই। তবু আমার মায়া লাগল। ঘাটের উপর বয়স হয়েছে।মরবার সময় তো এমনিতেই হল। তবু বাচবান কী আগ্রহ। সে আমাদের ধিশ হাজারটাকা দিতে চাইল। শুনে আমার ইচ্ছে হল, একটা প্রচণ্ড চড় কষিয়ে দি। কিন্তু আমিশান্ত গলায় বললাম--“জাফর, হাজী সাহেবকে ক্যাম্পে নিয়ে চল।” জাফর চোখলাল করে তাকাল আমার দিকে। থেমে থেমে বলশ, 'একে কুকুরের মতো গুলীকরে মারব।” হাজী সাহেব চিৎকার করে আল্লাহকে ডাকতে লাগলেন। এই তিনিইযখন মিলিটারি দিয়ে লোকজন মারিয়েছেল, তখন সেই লোকগুলিও শিশ্চয়ইআল্লাহ্কে ডেকেছিল। আঙ্লাহ্ তাদের যেমন রক্ষা করেন নি--হাজী সাহেবেরবেলায়ও তাই হল। হাজী সাহেব অপ্রবৃতিস্থ চোখে তাকিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি দেখতেলাগলেন। জাফর এক সময় বলল, 'তগবা-টওবা যা করবার করে নেন। দোওয়া-কালাম পড়েন হাজী সাহেব।' আর তখন হাজী সাহেব টিকার করে তাঁর মাকেডাকতে লাগলেন।*ও মাইজি গো, ও মাইজি গো।' কতকাল আগে হয়তো এই মহিলা মারা
Recent Comments