মূল রচনা থেকে অংশ:

আধিখ্যাতা কর যাবে না। গানের মাঝখানে শায়লা উঠে যাবেন নিজের জনে। চবানিয়ে আনতে। চা নিয়ে ঢুকবেন গান শেষ হবার পর এবং বলবেন গান শেষহয়ে গেল নাকি? ধেন টিভিতে গান গাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব]পার )'গানের অনুষ্ঠানের পর খুব স্বাভাবিক ভাবেই গান প্রসঙ্গে কিছুক্ষণ কথা হবেএখন শায়লা বলবেন-- ক্যাসেট কোম্পানিগুলি গানের ক্যাসেট বের করতে চায় ।আমি রাঙ্জি না। মেয়ে তো একেবারেই রাজি না। তার কাছে গান হলো খুবইপার্সোনাল ব্যাপার । নিজের আনন্দের জন্যে গান করা । ক্যাসটে গান বের করামানে_ মানুষের ঘরে ঘরে তার গলার স্বর পৌছে দেয়।-. এটা নাকি চিত্রারভালে! লাগে না। আমি অবশি। এসব কিছু ভাবি না। তারপরেও কেন জানিক্যাসেট বের করা আমার ভালো লাগে না।চিত্রার কিছু বান্ধবীকে খবর দেয়া দরকার । থে কোনো উৎসবে মেয়েরাকোনে? দে কিপকণ করতে থাকলেই উৎসবটা জমে । তবে খেয়াল রাখতে হবেপড়নে £ যেই বেন চিত্র চেয়ে সুন্দরী না দেখায়। তখন সবার চোখ গিয়েকোনো একটা পার্লার থেকে চিত্রার চুলও সেট করে আনতে হবে। খুবধরনের সেটিং। জবরজং দেখালে চলবে না, আবার ঘরে বসে হাত খোঁপাকরে ফেলেছে এরকম মনে হলেও চলবে না।কত সমস] । শায়লা দীর্ঘ নিঃশ্বাস7 ফেললেন । তবে এই দীর্ঘ নিঃশ্বাসে আনন্দনহমান মাহেবকে অফিসে আজ একটু অস্থির দেখাচেছ। এগারটা বাজে নিমধ তিনবার চা খেয়েছেন, দু'বার জর্দা দিয়ে পান খেয়েছেন ্আশিয়ে রেখেছেন । ইচ্ছা হলে খাবেন। টাঅফিসে কারো সঙ্গে তার তেমন সন্তাব নেই । তবে অফিসের বেয়ারা রতনকেতিনি খুবই পছন্দ করেন। সে যখন চা বা পান নিয়ে আসে তার সঙ্গে তিনিসংসারের কিছু টুকিটাকি কথা বলেন । আজ রাতে তিনি বড় মেয়ের সঙ্গে চাইনিজহোটেলে খেতে যাবেন এই কথা রতনকে বলেছেনবাত । গলা নিচু করে প্রায় ফিসফিসহোটেলের খাওয়া আমার খুবই অপছন্দ। বড় মেয়েটা একটা শখএই জন্যে যাওয়া। ছেলেমেয়েদের শখের দিকটা বাবা মা'কে দেখতে হয়।?রতন বেশির ভাগ মময়ই আলাপ-আলোচনায় অংশ নেয় না। তবে এমনভাবে কথা শুনে যে মনে হয় খুব আগ্রহ নিয়ে কথা শনছে। রহমান সাহেব ঠিককরেছেন অফিস ছুটির পর রতনকে কাল রাতে মাছের ব্যাপারটা বলবেন। কিতাবে মাছটা তাকে বলল, আজ আমাদের খাবার দেয়া হয় নি। সে অবিশ্বাসকরবে না, অন। কাউকে বলেও বেড়াবে না। অফিম ছুটির পরও রহমান সাহেববেশ কিছুক্ষণ থাকেন । ফাকা অফিসে কিছুক্ষণ একা বসে থাকতে তার ভালোশাগে। তখন রতন তার জনে। লেবু চা নিয়ে আসে । এই চায়ের দাম রতনকখনোই তাকে দিতে দেয় না । রহমান সাহেবের ইঞছা করছে মেয়ের এনগেজমেন্টেরতনকে দাওয়াত করতে । শায়লা তো বলেছে আঁফসের কোনো কলিগকে বলতেইচছো করলে তিনি বলতে পারেন। তবে যদি প্রকাশ হয়ে পড়ে রতন একজনপিওন তাহলে সমস্যা হতে পারে । রতন যদি ভালোমতো সেজেগুজে ফিটফাটহয়ে যায় তাহলে তাকে পিওন মনে হবে না । রতনকে তিনি দাওয়াতের কথা (কিছুবলেন নি শুধু বলে রেখেছেন. “বৃহস্পতিবারটা খালি রেখ । এক জায়গায় যেতেহতে পারে ।” রতন ঘাড় কাত করেছে । কোথায় যেতে হবে, কি বাপার কিছুইজিজ্েস করে নি।লাঞ্চের মিনিট দশেক আগে রহমান সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালেন।অফিসের বড় সাহেবের সঙ্গে কথা বলা দরকার । লাঞ্চের সময় বড় সাহেব বাসায়লাখ। করতে যান। বেশির ভাগ সময়ই ফেরেন না।এই আঁফিসের সবাই বড় সাহেবের ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে । তবে তিনি ভয়পান না। তিনি যথাসময়ে অফিসে আসেন, মন লাগিয়ে কাজ করেন, যথা সময়েরওপরে অফিস থেকে বাড়িতে যান। গত পাচ বছরে একদিনের জন্যেও ছুটি নেননি। তার টেবিলে কোনো পেন্ডিং ফাইল নেই । তার ভয় পাওয়ার কি আছে? তবেবড় সাহেবের চেহারা রাগা রাগা।, গলার স্বরও রাগী । তিনি বড় সাহেবকে এমনকিছু বলতে যাচ্ছেন না ষে বড় সাহেব রাগ করবেন এবং রাগী স্বর বের করবেন।বড় সাহেব টেলিফোনে কথা বলছিলেন । পর্দা সরিয়ে এই দৃশা দেখে রহমানসাহেব ঠিক করতে পারলেন না, ঘরে ঢুকবেন নাকি ঢুকবেন না । কেউ টোলফোনেকথা বললে হুট করে ঘরে ঢুকে পড়া ঠিক না । টেলিফোনে লোকজন অন্তরঙ্গ কথাবলে। বড় সাহেব হাতের ইশারায় রহমান সাহেবকে ঘরে ঢুকতে বললেন-_ এবংইশারা করলেন চেয়ারে বসার জন্যে । এটা একটা বিশেষ ভূত । বড় সাহেবেরচেয়ে অনেক নিচের আফসার সেকশনাল ইনগার্জ পরিমল বানু এই ভ্দতা করেননা। তার ঘরে ঢুকলে তিনি বসতে বলেন না। কেউ বসে পড়লে বিরক্ত হয়ে৩৫