মূল রচনা থেকে অংশ:

মূর্তির মতো বসে আছেন পুত্রবিরহকাতর এক মা, যিনি এইসেই গে তাঁর হারালো স্মৃতি ফিরে পেয়েছেনবাবা মাকে নিয়ে মোহনগঞ্জ উপস্থিত হলেন ৷ আমাকে মা'র কোলে বসিয়েদেয়া হল। মা বিস্মিত হয়ে বললেন, এই কি আমার ছেলে?নানিজান বললেন, হ্যা ।ছেলে এত বড় কেন?ছেলের বয়স দুই বছর, বড় হবে নাঃকথা বলতে পারে?পারে, সব কথা বলতে পারে ।মা নানিজানের দিকে তাকিয়ে কঠিন স্বরে বললেন, আমার ছেলের কোনোঅনাদর হয়নি তোঃনানিজান হেসে ফেললেন ।আমার ছেলের সোনার মতো গায়ের রং ছিল। ও এত কালো হল কেন?সারাদিন রোদে রোদে ঘোরে ।কেন, আপনারা দেখেন নাঃ কেন আমার ছেলে সারাদিন রোদে রোদেঘোরে?মা যতই রাগ করেন সবাই তত হাসে ।বাড়িভরতি মানুষ । মাতা-পুত্রের মিলনদৃশ্য দেখতে পাড়া ভেঙে বৌ-ঝি'রাএসেছে । আমার নানাজান আবার একমণ মিষ্টি কিনতে লোক পাঠিয়েছেন ।আসরের মধ্যমণি হয়ে আমার মা একটা জলচৌকিতে আমাকে কোলে নিয়েবসে আছেন! এই তার মুখে তৃপ্তি, এই তার চোখে জল । মেঘ ও রৌদ্রের খেলাচলছে। পৃথিবীর মধুরতম একটি দৃশ্য সবাই দেখছে সুদ্ধ হয়ে। এর মধ্যে মাসবাইকে সচকিত করে একটি ক্ষুদ্র প্রার্থনা করলেন। তিনি উচ্চস্বরে বললেন,“আমার এই ছেলের শৈশব বড় কষ্টে কেটেছে, আল্লাহ, তার বাকি জীবনটা তুমিসুখে সুখে ভরে দিও । বাকি জীবনে সে যেন কোনো দুঃখ না পায় ।'ঈশ্বর মা'র এই প্রার্থনা গ্রহণ করেননি । এই ক্ষুদ্র জীবনে আমি বারবার দুঃখপেয়েছি। বারবার হৃদয় হা-হা করে উঠেছে । চারপাশের মানুষদের নিষ্ঠুরতা,হৃদয়হীনতায় আহত হয়ে কতবার মনে হয়েছে_এই পৃথিবী বড়ই বিষাদময়!আমি এই পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোনো পৃথিবীতে যেতে চাই, যে-পৃথিবীতে মানুষনেই। চারপাশে পত্রপুষ্পশোভিত বৃক্ষরাজি । আকাশে চিরপূর্ণিমার চাদ, যে-টাদেরছায়া পড়েছে ময়ুরাক্ষী নামের এক নদীতে । সেই নদীর স্বচ্ছ জলে সারাক্ষণ খেলাকরে জোছনার ফুল । দূরের বন থেকে ভেসে আসে অপার্থিব সংগীত ।১৫চি