মূল রচনা থেকে অংশ:
“কাউকে সঙ্গে দেব না। তুই একা একা যাবি। কি লজ্জার কথা, এতবড় একটামেয়ে একা বাড়ি যেতে পারছে না। ভাবতেও লজ্জা লাগছে। যা ভাগ।:বড় বৃষ্টি মাথায় করে ভয়ে কীপতে কীপতে একাই বীণাকে বাসায় ফিরতে হল।কেন যে গেল অলিকের কাছে? যে সব কথা সে বলতে গিয়েছিল তার কোনোটাই বলাহয় নি। তার রেজান্টের কথাটা পর্যন্ত বলতে পারল না। এখন রাত দুপুরে একা একাফিরতে হচ্ছে। রাস্তা অন্ধকার। রিকশাওয়ালার ভাবভঙ্গি যেন কেমন- কেমন। বার_বারপিছনে ফিরে তাকাচ্ছে। কোনো রিকশাওয়ালা তো এরকম করে তাকায় না। একবারসে রিকশা থামাল, বীণার বুক ধক্ করে উঠল। শুধু শুধু রিকশা থামাল কেন? কী চায়সে? বীণা এখন কী করবে? চিৎকার দেবে? রাস্তায় কাউকে দেখা যাচ্ছে না! চিৎকারকরলে কেউ কি শুনবে?পৌঁছতে পৌঁছতে রাত সাড়ে আটটা বেজে গেল। বীণা! রিকশায় বসে ব্যাকুল হয়েকাদছে। পথ যেন তার ফুরাচ্ছে শা।মিজান সাহেব সন্ধ্যা থেকেই কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ডে দীড়িয়ে আছেন। তীর হাতেএকটা টর্চ লাইট। মাথার উপর ছাতা ধরা থাকা সত্ত্বেও তিনি কাকভেজা হয়ে গেছেনগায়ে রও আসছে। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি একটা ঘোরের মধ্যে আছেন। বীণাযখন রিকশ। থেকে কাঁপা গলায় ডাকল, “বাবা! তখনো ঘোর কাটল লা। বীণা বলল,“উঠে আস বাবা। তিনি উঠলেন না। একবার শুধু টর্চ ফেলে বীণার মুখের দিকেতাকালেন। তারপরই টর্চ নিভিয়ে রিকশার পেছনে পেছনে আসতে লাগলেন।দুশঘন্টা হয়েছে বীণা ঘরে এসেছে। মিজান সাহেব এই দু'ঘন্টায় একটি কথাওবলেন নি। কাপড় বদলে খাওয়া-দাওয়া করেছেন। বারান্দায় জলচৌকিতে বসে দৃটোসিগারেট শেষ করেছেন। সমত্ত ঘরের আবহাওয়া থমথমে। ফরিদা স্বামীর পাশে পাশেআছেন। লীনা ও বাবলু খুবই উচু গলায় পড়ছে। যেন তাদের সমস্ত ইন্দ্রিয় পড়ার বইতে।মিজান সাহেব দ্বিতীয় সিগারেটটা শেষ করলেন না, বৃষ্টির মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে শীতলগলায় বললেন, 'বীণাকে আমার ঘরে পাঠাও,ফরিদা কীদো কাঁদো গলায় বললেন, “মেয়ে বড় হয়েছে, মারধোর করবে না।?'যা করতে বলছি, কর।'বীণা মাথা নিচু করে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আতঙ্কে তার মুখ নীল। মিজানসাহেব স্ত্রীকে ঠেলে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। পরবতী কিছু সময়পর্যন্ত মিজান সাহেবের কোনো জ্ঞান ছিল লা। যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলেন বীণামেঝেতে হাত পা ছড়িয়ে পড়ে আছে, তার ঠোট কেটে গলগল করে রক্ত পড়ছোফরিদা প্রাণপণে দরজা ধাককাচ্ছেন। বাবলু ও লীনা চিৎকার করে কীদছে। এক সময়মিজান সাহেব দরজা খুললেন। কারো মুখে কোনো কথা নেই শুধু লীনাফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে বলল, "আপা মরে গেছে। ও আম্মা, আপা মরে গেছে।,রাত প্রায় দুটোর মতো বাজে। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। মিজান সাহেব ঘুমাননি। জলচৌকির উপর বসে আছেন। বারান্দায় বাতি নেভানো। তবু বারান্দা পুরোপুরিঅন্ধকার হয় নি। আকাশে চীদ আছে। তার ক্ষীণ আলোয় সব কিছুই শ্রানভাবে নজরেআসে।*৭0