মূল রচনা থেকে অংশ:
পড়ন্ত বেলায় খেয়া নৌকায় উঠলাম। হেডমাষ্টার সাহেব মূর্তির মত ওপারেদাঁড়িয়ে রইলেন। তীর দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই এক ধরনের প্রতীক্ষার ভঙ্গি আছে।সেই প্রতীক্ষা অচিন বৃক্ষের অচিন ফুলের জন্যে। যে প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছে হত-দারিদ্র গ্রামের অন্যসব মানুষরাও। এবং কী আশ্চর্য, আমার নত কঠিন নাস্তিকেরমধ্যেও সেই প্রতীক্ষার ছায়া। নদী পার হতে হতে আমার কেবলি মনে হচ্ছে-আহাফুটুক। অচিন বৃক্ষে একটি ফুল হলেও ফুটুক। কত রহস্যময় ঘটনাই তো এপৃথিবীতে ঘটে। তার সঙ্গে যুক্ত হউক আরো একটি।হেডমাষ্টার সাহেবও পাড়ে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন। তার হাতে হাতীর ছবিআঁকা দু'ম্বরী একটা কবিতার খাতা। দূর থেকে কেন জানি তাঁকে অচিন বৃক্ষেরমত লাগছে। হাতগুলি যেন অচিন বৃক্ষের শাখা । বাতাস পেয়ে দুলছে। |]মচি রিপিপড়া|. নআপনার অসুখটা কী বলুন?_. রুগী কিছু বলল না,পাশে বসে-থাকা সঙ্গীর দিকে তাকাল। .. ডাক্তার নূরুল আফসার, এমআরসিপি, ডিপিএস,অত্যন্ত বিরক্ত হলেন। তারবন্ধ করে বাসায় যেতে হবে। আজ তার শ্যালিকার জন্মদিন। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে,গ্রাম থেকে আসা রুগী তিনি পছন্দ করেন না -এরা হয় বেশী কথা বলে, নয়একেবারেই কথা বলে না। ভিজিটের সময় হলে দর দাম করার চেষ্টা করে। হাতকচলে মুখে তেলতেলে ভাব ফুটিয়ে বলে __ কিছু কম করা যায় না ডাক্তার সাব।৷ গরীব মানুষ।আজকের এই রুগীকে অপছন্দ করার তৃতীয় কারণটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।. তবু নূরুল আফসার সাহেবের কাছে এই কারণটিই প্রধান বলে বোধ হচ্ছে।লোকটির চেহারা নির্বোধের মত। এই ধরনের লোক নিজের অসুখটাও ঠিক মত_ বলতে পারে না। অন্য একজনের সাহায্য লাগে।বলুন, তাড়াতাড়ি বলুল। আমার অন্য কাজ আছে।লোকটি কিছু বলল না। গলা খাকারী দিয়ে সঙ্গীর দিকে তাকাল। ভাবখানাএরকম যে অসুখের কথা-বার্তা সঙ্গীটিই বলবে। সে-ও কিছু বলছে না। ডাক্তারনুরুল আফসার হাত ঘড়ির দিকে এক ঝলক তাকিয়ে বললেন, গরু ছাগল তার কীঅসুখ বলতে পারে না। তাদের অসুখ অনুমানে ধরতে হয়। আপনি তো আর গরুছাগল না। চুপ করে আছেন কেন? নাম কি আপনার ?্ রুগী কিছু বলল না। তার সঙ্গী বলল, উনার নাম মকবুল। মোহম্মদ মকবুলহোসেন ভূঁইয়া।নামটাও অন্য আরেকজনকে বলে দিতে হচ্ছে। আপনি কি কথা বলতেপারেন, না-_ পারেন না?পারি।কী নাম আপনার?মোহম্মদ মকবুল হোসেন ভূইয়া।৩২ ৩৩
Recent Comments