মূল রচনা থেকে অংশ:
মনে হবে, মরে যাই। অতি অল্পবয়সে আমি এমন এক দুরারোগ্য ব্যাধিতেআক্রান্ত হলাম । প্রচণ্ড পড়ার ক্ষুধা । পড়ার বই নেই । বাবার সমস্ত বই তালাবদ্ধ ।কারণ সবই বড়দের বৃই। পড়ার বয়স হয় নি।আমাদের শৈশবে পড়ার বইয়ের বাইরের সব বইয়ের সাধারণ নামআউটবুক 1 ছাত্রদের জন্যে আউট বুক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । কারণ আউট বুক দু'টোকাজ করে__সময় হরণ করে।চরিত্র হরণ করে।আমরা তখন থাকি সিলেটের মীরাবাজারে । আমাদের সঙ্গে এক চাচা এবং একমামাও থাকেন । তারা সিলেট 140০ কলেজের ছাত্র ৷ তাদের প্রধান কাজ প্রতি বছরইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেওয়া এবং ফেল করা। মাঝে মাঝে তারা গল্প-উপন্যাসের বই শিয়ে আসেন এবং এমন এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখেন যে, খুঁজেবের করতে শার্লক হোমস লাগে:একদিন খুজে পেয়ে গেলাম | তারা বই লুকিয়ে রাখেন বালিশের ওয়ারেরভেতর। একদিন সেখান থেকে একটা বই উদ্ধার করলাম । বইয়ের নাম দুটি জেএকই ফুল। মলাটে গাছের দুই শাখায় নয়নতারা ফুলের শ্বতো ফুল । ফুলেরভেতরে দুস্টা মেয়ের মুখ । খাটের নিচে বসে লুকিয়ে বই পড়ে ফেললাম ৷ কাহিনীহচ্ছে, দুই বোন একই সঙ্গে এফ এ ক্লাসে পড়ছে এমন একটি ছেলের প্রেমেপড়েছে। দু'টি মেয়ের চোখেই বিজলি জুলে। বিজলি একটা ভয়াবহ জিনিস ।বিজলির প্রপরই বজ্রপাত । এই বিজলি মেয়ে দু'টির চোখে কেন জ্বলে কিছুইবুঝলাম না।এ ছাড়াও ব্যাপার আছে, মেয়ে দুটির বুকে বুনোফুল প্রস্ুটিত হবার জন্যেঅপেক্ষায় । বুকে ফুল কীভাবে ফুটবে সেটা আরেক রহস্য ।খাটের নিচে বসে আমি নিষিদ্ধ বই পড়ছি, খবরটা প্রকাশিত হয়ে পড়ল । মাতালপাতার পাখা দিয়ে মেরে কঠিন শান্তি দিলেন । আমার এই গুরুতর অপরাধউচ্চ আদালতে (বাবার কাছে) পেশ করলেন। বাবা তার পরদিনই আমাকেকেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে নিয়ে গেলেন। লাইব্রেরির সদস্য করে দিলেন ।আমি নিশ্চিত ছিলাম সেই বিশাল লাইব্রেরির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য । হঠাৎ প্রকাণ্ড একটাজানালা আমার সামনে খুলে গেল । জানালা দিয়ে আসা অলৌকিক আলো আমাকেভাসিয়ে নিয়ে গেল ।0
Recent Comments