Dorjar Opashe – [1992]

মূল রচনা থেকে অংশ:

বলতে ইচ্ছা করে না। খালাতো ভাইটা বিরাট বদ। তুই কোন মন্ত্রী চিনিস না, তাই না?চেনার অবশ্য কথা না। ভাল মানুষদের সঙ্গে মন্ত্রীর পরিচয় থাকে না। বদগুলির সঙ্গেথাকে৷ খালাতো ভাইটা একটা বদ এই জন্যেই...রফিক কথা শেষ করল না। মাঝে মাঝে সে দীর্ঘ বাক্য শুরু করে। যেই মূহুর্তেমনে করে অনেক বেশি কথা বলা হয়ে গেল, সেই মুহুর্তে চুপ করে যায়। বাক্যটা শেষপর্যন্ত করে না।চায়ের টেবিলে দু'জন মুখোমুখি বসলাম। রফিক নাশতা করে এসেছে কি-নাজিজ্ঞেস করা অর্থহীন। জবাব দেবে না। দু'জনের নাশতা দিতে বললেই ভাল।রফিক, এই সপ্তাহেই তোদের বাড়িতে যাব। তোরা তো এখনো নারায়নগঞ্জ ড্রেজারকলোনিতে থাকিস? জবাব দিতে হবে না উপরে নিচে মাথা নাড়, তাহলে বুঝব; ।রফিক মাথা নাড়ল।“নদীর কাছে না তোদের বাড়ি?রফিক আবার মাথা নাড়ল।“তুই এক কাজ করতে পারবি_নদীর তীরে বালির ভেতর দুটা গর্ত খুঁড়ে রাখতেপারবি? মানুষসমান গর্ত। যেন গর্তে ঢুকলে শুধু মাথাটা বের হয়ে থাকে । কাজটা করতেপূর্ণিমার আগের দিন? ।রফিক বিরস গলায় বলল, আচ্ছা ।গর্ত কেন খুঁড়তে হবে, কি ব্যাপার, কিছুই জিজ্ঞেস করল না। এই স্বভাবই তাঁরনা। পূর্ণিমার আগের দিন তার বাড়িতে উপস্থিত হলে দেখা যাবে সে ঠিকই গর্ত খুঁড়েবসে আছে।পরোটা ভাজি দিয়ে গেছে। রফিক খাচ্ছে না। অর্থাৎ সে বাড়ি থেকে নাশতা করেবের হয়েছে। ভোররাতে রওনা না হলে এত সকালে কেউ ঢাকায় পৌঁছতে পারে না।এত ভোরে কে তাকে নাশতা বানিয়ে দিয়েছে? তার বউ? বছর খানিক আগে রফিকবিয়ে করেছে। যতদুর জানি, মেয়েটা চমৎকার । আপন-পর বলে তার মধ্যে কিছু নেই।১৯৪