মূল রচনা থেকে অংশ:

“আমার মনে হয়, তারা আর ফিরে আসবে না।”“ঘরে তালা লাগানোর তাহলে আর কোনো প্রয়োজন নেই, তাই না?“আমার মনে হয়, নেই ।“আমি নিজেও বোধ হয় আর কোনোদিন এ বাড়িতে ফিরে আসব না ।'“সেই সম্ভাবনাই বেশি ।'“চলুন আমরা রওনা হই ।”'আমার হাত ধর ।'ইরিনা তার হাত ধরল । লোকটি বিনা ভূমিকায় একটা হাসির গল্প শুরুকরল । লোকটির গল্প বলার ঢং অত্যন্ত চমৎকার । ইচ্ছা না করলেও শুনতে হয়।একজন মানুষ কী করে হঠাৎ একদিন ছোট হতে শুরু করলো সেই গল্প । ছোটহতে হতে মানুষটা একটা পিঁপড়ের মতো হয়ে গেল । তার চিন্তা-ভাবনাও হয়েগেল পিপড়ের মতো । বড়ো কিছু এখন সে আর ভাবতে পারে না।বাইরে বেশ ঠাণ্ডী। কনকনে বাতাস বইছে। একটা ভারি জ্যাকেট ইরিনারগায়ে। লাল রঙের মাফলারে কান ঢাকা, তবু তার শীত করছে। রাস্তাঘাটেলোকজন দ্রুত কমছে। রাত আটটার ভেতর একটি লোকও থাকবে না। থাকারনিয়ম নেই। ফেডারেল আইন । বেরুতে হলে কমিউন থেকে পাস নিতে হয়।সেই পাস কখনো পাওয়া যায় না। রাতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে ডাক্তার এসেচিকিৎসা করেন, তাকে হাসপাতালে যেতে হয় না। তবু মাঝেমধ্যে কেউ কেউবের হয়। তারা আর ফিরে আসে না। কোথায় হারিয়ে যায় কে জানে ?“তোমার শীত লাগছে ইরিনা ?"না।'তুমি কিন্তু কাপছ ?“আমার শীত লাগছে না।”“তুমি কিন্তু এখনো আমার নাম জানতে চাও নি।”“আপনার নাম দিয়ে আমার কোনো প্রয়োজন নেই ।”“তা খুবই ঠিক। তোমার বয়স কত ইরিনা £'ইন্টলিজেন্সের লোক যখন কারো কাছে আসে, তখন তার নাম এবং বয়সজেনেই আসে ।'ঠিক। খুবই সত্যি কথা । তোমার বয়স এপ্রিলের তিন তারিখে আঠার হবে ।'ইরিনা হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে দীড়িয়ে কঠিন গলায় বলল, “আপনি আর কীকী জানেন আমার সম্বন্ধে ?“তুমি লাল ও বেগুনি-_ এই দুটি রঙ খুব পছন্দ কর। তোমার কোনোবন্ধুবান্ধব নেই । তোমার পছন্দের বিষয় হচ্ছে প্রাচীন ইতিহাস । তুমি এই বিষয়েপ্রচুর পড়াশোনা করেছ । তুমি খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে এবং তুমি...“থাক, আপনাকে আর কিছু বলতে হবে না।১ট