মূল রচনা থেকে অংশ:
গুড, ভেরি গুড । তোমাকে চাকরিতে বহাল করা হলো । কাল সকালে জয়েনকরবে । সকাল দশটা থেকে ডিউটি ।আমি সব সময় অন্যদের চমকে দিয়ে আনন্দ পাই। এই প্রথম বল্টুভাইআমাকে চমকালেন । আমি তার কাছে কোনো চাকরির জন্যে আসি নি। কয়েকটাজিনিস দিতে এসেছিলাম ।বল্টুভাই বললেন, এসি আছে এমন একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করবে । এইমাইক্রোবাস দশ দিন আমাদের সঙ্গে থাকবে । আমরা নেত্রকোনা জেলার সোহাগীগ্রামে চলে যাব । দশ দিন থাকব।আমি বললাম, জি আচ্ছা স্যার ।স্যার বলছ কেন?আপনি আমার বস, এইজন্যে স্যার বলছি।তুমি বল্টুভাই ডাকছিলে, শুনতে ভালো লাগছিল । আমি ট্রেডিশন্যাল বস না।তোমার চাকরিও চুক্তিভিত্তিক । আমি বই লেখা যেদিন শেষ করব, তার পরদিনতোমার চাকরিও শেষ ।বল্টুভাই, আমার কাজটা কী ?মিসেস মাজেদা তোমাকে কিছু বলেন নি?জি-না।তুমি নানানভাবে আমাকে সাহায্য করবে, যেন বইটা লিখে শেষ করতেপারি।কীবই?বইয়ের নাম হচ্ছে ঈশ্বর শূন্য আত্মা শূন্য” । বইয়ে প্রমাণ করব, ঈশ্বর বলেকিছু নেই। আত্মা বলেও কিছু নেই।আমি বললাম, আপনার তো রগ কেটে ফেলবে ।বল্টুভাই অবাক হয়ে বললেন, কে রগ কাটবে ?আমাদের রগ কাটার লোক আছে। এনাটমিতে বিশেষ পারদর্শী । এরাআল্লাহ, ধর্ম, এইসব বিষয়ে উল্টাপাল্টা কিছু বললে হাসিমুখে রগ কেটে দিয়ে চলেযায়।কী অদ্ভুত কথা!আমি বললাম, বল্টুভাই! আপনি চিন্তিত হবেন না । এরা শুধু রগ কাটে, মেরেফেলে না। যাদের রগ কেটেছে, তারা বলেছে যে ব্যথাও তেমন পাওয়া যায় না।শুধু বাকি জীবন বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হয়।১৫
Recent Comments