Himu Samagra (Part-1)

মূল রচনা থেকে অংশ:

আমি হুংকার দিয়ে উঠলাম, চুপ ব্যাটা ফাজিল। এক চড় দিয়ে চোয়াল ভেঙে দেব।আমাকে চিনিস ? চিনিস তুই আমাকে ?ড্রাইভারের চোখমুখ শুকিয়ে গেল। বড়লোকের ড্রাইভার এবং দারোয়ান এরা খুবভীতু প্রকৃতির হয়। সামান্য ধমকাধমকিতেই এদের পিলে চমকে যায়। আমার কাধেএকটা শান্তিনিকেতনী ব্যাগ। অত্যন্ত গভীর ভঙ্গিতে ব্যাগে হাত ট্রুকিয়ে ছোট্ট নোট বইটাচেপে ধরলাম । ভাবটা এরকম যেন কোনো ভয়াবহ অন্ত্র আমার হাতে । আমি ড্রাইভারেরদিকে তাকিয়ে শীতল গলায় বললাম, এই ব্যাটা, গাড়ি স্টার্ট দে। আজ আমি তোরবাপের নাম ভুলিয়ে দেব।ড্রাইভার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি স্টার্ট দিল। এই ব্যাটা দেখছি ভীতুর যম। বারবার আমারব্যাগটার দিকে তাকাচ্ছে । আমি বললাম, সামনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি চালা হারামজাদা ।এ্যাকসিডেন্ট করবি |আমি এবার পেছনের দিকে তাকালাম । কড়া গলায় বললাম, আদর করে গাড়িতেতুলে পথে নামিয়ে দেয়া, এটা কোনো ধরনের ভদ্রতা?ভদ্রমহিলা বা তার মেয়ে দুজনের কেউই কথা বলল না। ভয় শুধু ড্রাইভার একাপায়নি এর দুজনও পেয়েছে। মেয়েটাকে শুরুতে তেমন সুন্দর মনে হয়নি। এখনদেখতে বেশ ভালো লাগছে। গাড়ি- চড়া মেয়েগুলি সবসময় এত সুন্দর মনে হয় কেন?তবে এই মেয়েটার গায়ের রঙ কম ফরসা হলে ভালো হতো। চোখ অবশ্যি সুন্দর।এমনও হতে পারে, ভয় পাওয়ার জন্যে সুন্দর লাগছে। ভীত হরিণীর চোখ যেমন সুন্দরহয়, ভীত তরুণীর চোখও বোধহয় সুন্দর হয়। ভয় পেলেই হয়তোবা চোখ সুন্দর হয়ে -যায় ।আমি সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললাম, গাড়িতে খানিকটা ঘুরব। জাস্ট ইউনিভার্সিটিএলাকায় একটা চক্কর দিয়ে তারপর যাব ফার্মগেট ।কেউ কোনো কথা বলল না।১৪