মূল রচনা থেকে অংশ:
দুপুরে খানা খাওয়ার জন্যে খাসি জবেহ করলেন । মিলিটারিরা সন্ধ্যা পর্যন্তথাকল । খানাপিনা করল । যাবার সময় ইয়াকুব আলী সাহেবের দুই মেয়েআর ছেলের বউকে তুলে নিয়ে চলে গেল । আর তাদের কোন খোজ পাওয়াযায় নাই । এখন গলের মতো মনে হয়। কিন্তু এটা বাস্তব সত্য । আমারনিজের দেখা । সেই দিনের খানায় শরিক হওয়ার জন্যে ইয়াকুব আলী সাহেবআমাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন । নিয়ে যাবার জন্যে নৌকা পাঠিয়েছিলেন ।আমি গিয়েছিলাম ।হাত থেকে বাচার জন্যে মসজিদে কোরআন খতম দেয়া হলো । গ্রাম বন্ধকরা হলো । এক লাখ চব্বিশ হাজার বার সুরা এখলাস পাঠ করা হলো । কীযে অশান্তিতে আমাদের দিন গিয়েছে ভাই সাহেব, আপনাকে কী বলব ।রাতে এক ফোটা ঘুম হতো না। আমার স্ত্রী তখন সন্তান সন্তবা। সাত মাসচলছে । হাতে নাই একটা পয়সা । স্কুলের বেতন বন্ধ । গ্রামের ঝড়ি থেকে থেটাকা পয়সা পাঠাবে সে উপায়ও নাই । দেশে যোগাযোগ বলতে তখন কিছুইনাই । কেউ কারো খোজ জানে না। কী যে বিপদে পড়লাম । সোবহানান্নাহ।বিপদের উপর বিপদ- জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিবাহিনী দেখাদিল। নৌকায় করে আসে, দুই একটা ফুটফাট করে উধাও হয়ে যায়।বিপদে পড়ি আমরা । মিলিটারি এসে গ্রামের পর খ্রাম জ্বালায়ে দিয়ে যায় ।মুক্তিবাহিনীর তখন আর কোনো নাড়াচাড়া পাওয়া যায় না। সেপ্টেখবর মাসেরশেষের দিকে অবস্থার পরিবর্তন হলো । মুক্তিবাহিনী তখন শুধু আর ফুটফাটকরে না ব্রীতিমতো যুদ্ধ করে | ভালো যুদ্ধ ৷ বললে বিশ্বাস করবেন না, এরাকাঞ্চন নদীতে মিলিটারির একটা লঞ্চ ভুবায়ে দিল । লঞ্চ ডুবার ঘটনা ঘটলসেপ্টেম্বর মাসের ছাবিবিশ তারিখ । স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে এই সংপ্রচার করা হয়েছিল৷ ভাই সাহেব হয়তো শুনেছেন । বল। হয়েছিল শতাধিকমিলিটারির প্রাণ সংহার হয়েছে। এটা অবশ্য ঠিক না । মিলিটারি অল্লই ছিল ।বেশির ভাগ ছিল রাজাকার । রাজাকারগুলো সাতরে পাড়ে উঠেছে, গ্রামেরলোকরাই তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। যুদ্ধ খুব খারাপ জিনিস ভাইসাহেব। যুদ্ধ অতি সাধারণ মানুষকেও হিংস্র করে ফেলে । এটা আমারনিজের চোখে দেখা ।এখন মূল গল্পটা আপনাকে বলি। সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখেরঘটনা। মাগরেবের নামাজ পড়ে বারান্দায় বসে আছি। তুমুল বর্ষণ হচ্ছে।ইংরেজিতে যাকে বলে ক্যাটস এন্ড ডগস ৷ একা একা বৃষ্টি দেখছি । আমার0
Recent Comments