Kichu Shoishob

মূল রচনা থেকে অংশ:

দাপ্রাণসখাশৈশব ও কৈশোরে প্রাণসখা হয় না। খেলার সাথি হয়। শৈশবের বন্ধুদের কথাএই কারণেই কারো মনে থাকে না। খেলা শেষ, বন্ধৃতৃও শেষ । আমি অনেকচেষ্টা করেও খেলার সাথিদের নাম মনে করতে পারছি না! একজন ছিল শঙ্কর(মাথামোটা শঙ্কর নামে তাকে ডাকা হতো), তার কথা “আমার ছেলেবেলাবইটিতে বিস্তারিত লিখেছি । জীবন তার প্রতি করুণা করে নি। পত্রিকার হকারএবং বাদামওয়ালা হয়ে সে কোনোক্রমে জীবন টেনে নিচ্ছিল। বছর দুই আগেপত্রিকায় পড়লাম শঙ্কর খুন হয়েছে! তার মৃতদেহ ভেসে উঠেছে একপানাপুকুরে। কে বলবে এটাই হয়তো সেই পুকুর যেখানে আমি শঙ্করকে নিয়েদাপাদাপি করে শৈশব যাপন করোছ।টগর নামের এক খেলার সাথির কথা মনে পড়ছে। আমার চেয়ে সে বছরখানিকের বড় । খেলাধুলায় অপটু, মারামারিতে অতি দুর্বল । দুর্বলরা কথাবার্তায়দড় হয়, সেও তাই ছিল। সারাক্ষণ উপদেশ এবং জ্ঞান বিতরণ । আমাকে সেএকদিন গন্তীর হয়ে বলল, “আমার গায়ের রঙ কালো, কারণ আল্লাহ আমাকেমাটি দিয়ে বানিয়েছেন । আর তোমার গায়ের রঙ শাদা, কারণ তোমাকে গু দিয়েবানিয়েছেন। ভালো করে হাত শুকে দেখ গুয়ের গন্ধ পাবে । (যারা আমাকেসামনা সামনি দেখেছেন তীারা জানেন আমার গাত্রবর্ণ কালো । মনে হচ্ছে শৈশবেফর্সাভাব ছিল) যাই হোক পুরনো প্রসঙ্গে যাই। টগরের কথামতো আমি আমারহাত শুঁকলাম এবং গুয়ের গন্ধ পেলাম । কী সর্বনাশ! বন্ধুবান্ধব যাদের গাত্রবর্ণগৌর তাদের সবার গায়েই গুয়ের বদ গন্ধ! টগরের কথা বিশ্বাস হলো । কাদতেকীদতে বাসায় ফিরে মা'কে জিজ্ঞেস করলাম, মা, আমাকে কি আল্লাহ গু দিয়েবানিয়েছেন ? বাসায় বিরাট হাসাহাসি পড়ে গেল । আমার মা তার বড় ছেলেকেনিয়ে কোনো গল্প বলতে গেলেই এই গল্পটা করেন।টগরের জ্ঞান বিতরণের আরেকটি গল্প বলি। একদিন সে সবাইকে ডেকেবলল, মাথার উপর দিয়ে প্লেন উড়ে যেতে দেখলেই সবাই যেন দৌড়ে বাড়িতে১৯