মূল রচনা থেকে অংশ:
[ক] প্রাচীন যুগ : ৯৫০ থেকে ১২০০ পর্যন্ত ।[খ] মধ্যযুগ : ১৩৫০ থেকে ১৮০০ পর্যন্ত ।[গ] আধুনিক যুগ : ১৮০০ থেকে আজ পর্যন্ত, আরো বহুদিন পর্যন্ত।এ-তিন যুগের সাহিত্যই বাঙলা সাহিত্য, কিন্তু তবু বিষয়বন্ত্রতে, রচনারীতিতে এ-তিনযুগের সাহিত্য তিন রকম প্রাচীন যুগে পাওয়া যায় একটি মাত্র বই, যার নাম চধাঁপদ ।এর ভাষা আজ দুর্বোধ্য, বিষয়বস্তু দুর্ূহ। এর কবিরা সকলের জন্যে সাহিত্য রচনা করেননি, করেছেন নিজেদের জন্যে । তাছাড়া সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্যও হয়তো তাদের ছিলোনা। তারা সবাই ছিলেন বৌদ্ধ সাধক; তারা এ-কবিতাগুলোতে নিজেদের সাধনার গোপনকথা বলেছেন। তবু মনের ছোয়ায় তাতে লেগেছে সাহিত্যের নানা রঙ ও সৌরভ । এরপরে দেড়শো বছর বাউলা ভাষায় আর কিছু রচিত হয় নি। কালো, ফসলশূন্য এ-সময়টিকে[১২০০ থেকে ১৩৫০] বলা হয় “অন্ধকার যুগ" । কেননা এ-সময়ে আমরা কোনো সাহিত্যপাই নি। অন্ধকার যুগের পরে পুনরায় প্রদীপ জুলে, আসে মধ্যযুগ । এ-যুগটি সুদীর্ঘ । এ-সময়ে রচিত হয় অসংখ্য কাহিনীকাব্য, সংখ্যাহীন গীতিকবিতা; মানুষ আর দেবতার কথাগীত হয় একসাথে । আগের মতো সাহিত্য আর সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে নি, এর মধ্যে দেখাদেয় বিস্তার । এর ফলে সাহিত্যে স্থান পায় দেবতা ও দৈত্য, মানুষ ও অতিমানুষ; আসেগৃহের কথা, সিংহাসনের কাহিনী । এ-সময়ে যারা মহৎ কবি, তাদের কিছু নাম : বড়চত্ীদাস, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, বিজয়গ্ুপ্ত, চণ্তীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস,ভারতচন্দ্র, আলাওল, কাজী দৌলত । ম্ধ্যযুগের একশ্রেণীর কাব্যকে বলা হয় “মঙ্গলকাব্য” |এগুলো বেশ দীর্ঘ কাব্য । কোনো দেবতার মর্ত্যলোকে প্রতিষ্ঠার কাহিনী এগুলোতে বলেনকবিরা । এজন্যে মঙ্গলকাব্য দেবতাদের কাব্য । মধ্যযুগের সকল সাহিত্যই দেবতাকেন্দ্রিক,মানুষ সে-সময়ে প্রাধান্য লাভ করে নি। মানুষের সুখদুঃখের কথা এসেছে দেবতারকথাপ্রসঙ্গে। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না, কেননা দেবতার ছদ্মবেশে এ-সব কাব্য জুড়েআছে মানুষ । ্মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ঞব পদাবলি । এ-কবিতাগুলো ক্ষুদ্র; কিন্তু এগুলোতে যে-আবেগ প্রকাশিত হয়েছে, তা তুলনাহীন। এ-কবিতার নায়কনায়িকা কৃষ্ণ ও রাধা । বৈষ্ণবকবিরা কখনো রাধার বেশে কখনো কৃষ্ণের বেশে নিজেদের হৃদয়ের আকুল আবেগ প্রকাশকরেছেন এ-কবিতাগুলোতে। মধ্যযুগে মুসলমান কবিরা একটি নতুন প্রদীপজ্বালিয়েছিলেন। তারা সর্বপ্রথম শোনান নিছক মানুষের গল্প । মধ্যযুগে হিন্দু কবিরাদেবতার গান ও কাহিনী রচনায় যখন সমর্পিত, তখন মুসলমান কবিরা ইউসুফ-জুলেখা বালাইলি-মজনুর হৃদয়ের কথা শোনান । এর ফলে দেবতার বদলে প্রাধান্য লাভ করে মানুষ ।এ-মানুষ যদিও কল্পনার সৃষ্টি, তবু মানুষের কথা সবার আগে বলার কৃতিত্ব মুসলমান কবিরাদাবি করতে পারেন।মধ্যযুগের অবসানে আসে আধুনিক যুগ, এইতো সেদিন, ১৮০০ অবন্দে। আধুনিকযুগের সব চেয়ে বড়ো অবদান গদ্য । প্রাচীন যুগে, মধ্যযুগে বাঙলা সাহিত্যে গদ্য বলতেবিশেষ কিছু ছিলো না। তখন ছিলো কেবল কবিতা বা পদ্য । তখন গদ্য ছিলো না, তা নয়;গদ্যসাহিত্য ছিলো না। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকেরা সুপরিকল্পিতভাবে বিকাশঘটান বাঙলা গদ্যের। তাদের প্রধান ছিলেন উইলিয়ম কেরি। কেরির সহায়ক ছিলেনরামরাম বসু । উনিশশতকের প্রথম অর্ধেক কেটেছে সদ্য জন্মনেয়া গদ্যের লালনপালনে।লাল নীল দীপাবলি ১৩
Recent Comments