Lilabotir Mrityu

মূল রচনা থেকে অংশ:

নবিজীর প্রথম দুধমা'র নাম আইমান। তিনি আবিসিনিয়ার এক খিষ্টানতরুণী । অনেক পরে এই মহিলার বিয়ে হয় যায়েদ বিন হারিসের সঙ্গে ৷ যায়েদবিন হারিস নবিজীর পালকপুত্র ।আইমানের পরে আসেন থুআইবা। তৃতীয়জন হালিমা । যিনি বানু সাদগোত্রের রমণী । নবিজীর দুধমা হিসেবে আমরা হালিমাকেই জানি । আগেরদু'জনের বিষয়ে তেমন কিছু জানি না।হালিমার অবস্থাটা দেখি। বানু সাদ গোত্রের সবচেয়ে দরিদ্র মহিলা । ঘরেতার নিজের খাওয়ার ব্যবস্থাই নেই। বুকে দুধ নেই যে নিজের শিশুটিকে দুধখাওয়াবেন । মক্কায় অনেক খোজাখুঁজি করেও তিনি দত্তক নেওয়ার মতো কোনোশিশু পেলেন না। কে এমন দরিদ্র মহিলার কাছে আদরের সন্তান তুলে দেবে! প্রায়অপারগ হয়েই তিনি শিশু মোহাম্মদকে নিলেন।পরের ঘটনা নবিজীর জীবনীকার ইবনে ইসহাকের ভাষ্যে শুনি__'যেই মুহুর্তেআমি এই শিশুটিকে বুকে ধরলাম, আমার স্তন হঠাৎ করেই দুধে পূর্ণ হয়ে গেল।সে তৃপ্তি নিয়ে দুধ পান করল । তার দুধভাইও তা-ই করল । দুজনই শান্তিতে ঘৃমিয়েপড়ল । আমার স্বামী উঠে গেল মেয়ে উটটাকে দেখতে । কী আশ্চর্য, তার শুকনোওলানও দুধে পূর্ণ । আমার স্বামী দুধ দুয়ে আনল । আমরা দুজন প্রাণভরে সেই দুধখেয়ে পরম শান্তিতে রাত্রে ঘুমালাম। পরদিন সকালে আমার স্বামী বলল, হালিমা,তুমি কি বুঝতে পারছ তুমি এক পবিত্র শিশুকে (8199980 0178) ঘরে এনেছ ?শিশু মোহাম্মদের দুধভাইয়ের নাম আবদুল্লাহ । আবদুল্লাহর তিন বোন__শায়মা, আতিয়া ও হুযাফা | বোন শায়মা সবার বড় । শিশু মোহাম্মদকে তার বড়ইপছন্দ । সারা দিনই সে চন্দ্রশিশড কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় । এখানে-ওখানে চলেযায়। একদিন বিবি হালিমা মেয়ের ওপর খুব বিরক্ত হলেন । মেয়েকে ধমক দিয়েবললেন, দুধের শিশু কোলে নিয়ে তুমি প্রচণ্ড রোদে রোদে ঘৃরে বেড়াও। এটাকেমন কথা! বাচ্চাটার কষ্ট হয় না!শায়মা তখন একটা অদ্ভুত কথা বলল । সে বলল, মা, আমার এই ভাইটাররোদে মোটেও কষ্ট হয় না। যখনই আমি তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হই, তখনইদেখি আমাদের মাথার ওপর মেঘ । মেঘ সূর্যকে ঢেকে রাখে।নবিজীকে মেঘের ছায়া দানের বিষয়টি জীবনীকার অনেকবার এনেছেন।তার চাচা আবু তালেবের সঙ্গে প্রথম সিরিয়ায় বাণিজ্য-যাত্রাতেও মেঘ তার মাথায়ছায়া দিয়ে রেখেছিল ।