Misir Alir Choshma

মূল রচনা থেকে অংশ:

|$নু্ররডিটু/চি্্ঢুচিৃ্মিসির আলি মোটেই বিচলিত হলেন না।তিনি বললেন, এ রাতে নিশ্চয়ই আপনার 7৬খোলা ছিল। ৬ স্ক্রিন থেকে আসা আলোয়আপনার ছায়া পড়েছে। টিভি ছাড়ুন।দেখলাম ।মিসির আলি বললেন, হেটে বাথরুম পর্যন্তযান। ছায়াকে হেটে যেতে দেখবেন।আমি বললাম, এখন আর তার প্রয়োজনদেখছি না।মিসির আলি বললেন, ভয় কেটেছে?আমি হ্যা-সুচক মাথা নাড়লাম ।মিসির আলি বললেন, এখন কি রাতে বাতিনিভিয়ে ঘুমুতে পারবেন ?আমি বললাম, না।ঘুমুবেন। সমস্যা কিছু নেই। ঘুমুবার জন্যেঅন্ধকার কোনো পূর্বশর্ত না। ভালো কথা, এবাড়িতে গেস্টরুূম আছে না?আমি বললাম, আছে।যদি আমি আপনার গেস্টরুমে বাস করি তাহলেকি কোনো সমস্যা হবে ?কবে থেকে থাকা শুরু করবেন ?আজ থেকেই । আমি প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় সঙ্গে করে এনেছি। শুধু টুথপেস্ট আনাহয় নি। টুথ্বাশ এনেছি।এতক্ষণ চোখে পড়ে নি এখন চোখে পড়ল,মিসির আলি ছোক্ট একটা চামড়ার স্যুটকেসএবং হাত ব্যাগ নিয়ে এসেছেন । কাজটা তিনিকরেছেন শুধুমাত্র আমাকে সঙ্গ দেবার জন্যে ।আনন্দে আমার চোখে পানি আসার জোগাড়হলো।মিসির আলি বললেন, আপনি অনেকদিনথেকে বলছিলেন আমার কোনো একটারহস্যভেদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান।এই মুহূর্তে আমি একটা রহস্য নিয়ে ভাবছি।আপনি চাইলে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতেপারেন।আমি আগ্রহের সঙ্গে বললাম, অবশ্যই যুক্তথাকতে চাই।দশ পৃষ্ঠার একটা চিঠি এখন আপনাকেদিচ্ছি। রসায়নের একজন অধ্যাপিকাদিয়েছেন। আপনি মন দিয়ে চিঠিটা তিনবারপড়বেন। ইতোমধ্যে আমি আপনার গেস্টরুমে ০৫৮। অন্যদিন ঈদ সংখ্যা ২০০৭স্থায়ী হচ্ছি। ভালো কথা, আপনার এখানে কিচা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে?ব্যবস্থা নেই।রাতে ঘুম না এলে আমাকে চা খেতে হয়।টি ব্যাগ, চা-চিনির ব্যবস্থা করছি। রান্নার চুলাঠিক আছে তো?জানি না।মিসির আলি বললেন, আপনি চিঠি পড়ুন,আমি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি ।আমি চিঠি নিয়ে বসলাম । যথেষ্ট মনোযোগদিয়েই পড়তে শুরু করলাম । এক-দুই পৃষ্ঠাপড়ার পরই স্বীকার করতে বাধ্য হলাম,রসায়নের এই অধ্যাপিকার বাংলা গদ্যের উপরভালো দখল আছে। হাতের লেখাও গোটাগোটা । নির্ভুল বানান ।চিঠির মূল বক্তব্য সন্তানের মৃত্যু রহস্যেরসমাধান | আমার কাছে সমাধান খুব কঠিন বলেমনে হলো না। সন্তানের মা সমাধান নিজেইকরেছেন। সমাধানের স্পষ্ট ইঙ্গিতও চিঠিতেদেয়া। ভদ্রমহিলা তার শাশুড়িকে দায়ীকরেছেন। সেটাই স্বাভাবিক। এই বৃদ্ধাবাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। খুনি বৃদ্ধারমোটিভও পরিষ্কার। এই বৃদ্ধা তার ছেলেকেকাছে রাখতে চান । তিনি চান না ছেলে আলাদাফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকুক । ছেলেকে পাশে রাখারজন্যে যে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা তিনি করেছেন তাকাজ করেছে। ছেলে নতুন ফ্ল্যাটে উঠে নি।যে রহস্যের কথা চিঠিতে বলা হয়েছে সেইরহস্য সাদামাটা রহস্য। রহস্যভেদের জন্যেমিসির আলির মতো মানুষ লাগে না। আমারমতো গড়পড়তা মেধার যে-কোনো মানুষই এইরহস্যভেদ করবে ।খেলাম । বাবুর্টি মিসির আলি সাহেব । চিকনচালের ভাত। আলু ভর্তা । ডিম ভাজি এবংডাল। খেতে বসে মনে হলো, অনেকদিন এতভালো খাওয়া হয় নি।মিসির আলি বললেন, বাঙালি রান্না দুইরকম । ব্যাপক আয়োজনের রান্না এবংআয়োজনহীন রান্না । আপনাকে কিছু রান্না আমিশিখিয়ে দেব। নিজে রাধবেন। নিজের রান্নাখাবেন। আলু ভর্তার জন্যে আলু আলাদা সিদ্ধকরতে হবে না। ভাতের সঙ্গে দিয়ে দেবেন।ডাল রান্নার মূল মন্ত্র হচ্ছে সিদ্ধ । যত সিদ্ধ হবেডাল তত খেতে ভালো হবে। তবে তেলেবাগার দিতে হবে । সিদ্ধ হতে হতে ডাল যখন'কলয়েড' ফর্মে চলে যাবে তখন বাগার প্রক্রিয়াশুরু করবেন। বাগারের কারণে তেল ডালেরকার উপর লাপরণ তেরি করাবে বাগারেরনেয় । আমি তার প্রয়োজন দেখি না। পেয়াজ-রসুন ছাড়া ডাল রাধে বিধবারা। সেই ডালখেতে সুস্বাদু । ইলিশ মাছ খুব অল্প আচে সিদ্ধহয়, এটা কি জানেন ?জানি না।মসলা মাখিয়ে ইলিশ মাছের টুকরো রোদেরেখে দিলেও সিদ্ধ হয়ে যায় । আপনাকে রোদেরাখতে হবে না। গরম ভাতের উপর রেখেঢাকনা দিয়ে রাখলেই হবে ।মসলা কী?মসলা হচ্ছে লবণ । আর কিছু না। বাঙালিমেয়েরা ভাপা ইলিশে নানান মসলা দেয়।মসলা মাছের স্বাদ নষ্ট করে। কোনো রকমমসলা ছাড়া ভাপা ইলিশ একবার খেলেইআপনার আর মসলা খেতে ইচ্ছা করবে না।আমি ঘোষণা করলাম, আগামীকাল রাতেরসব রান্না আমি করব । মেন্যু ইলিশ মাছ, ডাল,আলু ভর্তা । ভালো ঘিও কিনে আনব। গরমভাতের উপর এক চামচ ঘি ছেড়ে দেয়া হবে।কিছু তৈরি হবার কথা । ভেবেই আনন্দ পাচ্ছিএবং এক ধরনের উত্তেজনাও বোধ করছি।দুপুরে বাজার করতে হবে। একটা ফিজ কেনাদরকার ।মিসির আলি হঠাৎ বললেন, ব্যাচেলরজীবনে কিছু আনন্দ আছে, তাই না?আমি ধাক্কার মতো খেলাম । আমার মনেহলো, রান্নাবান্নার এই বিষয়টি মিসির আলিব্যস্ত থাকতে পারি।রাতের খাওয়া শেষে দু'জন বারান্দায়চেয়ার পেতে বসেছি। দক্ষিণমুখী বারান্দা।ভালো হাওয়া দিচ্ছে। দু'জনের হাতেইসিগারেট । মিসির আলি সিগারেটে লম্বা টানদিয়ে বললেন, আজকাল সিগারেটের প্যাকেটেলেখা থাকে “ধুমপান মৃত্যু ঘটায়' | পড়েছেন ?আমি বললাম, পড়েছি।মিসির আলি বললেন, আমার নিজেরধারণা সিগারেটের প্যাকেটে এই সতর্কবাণীদেয়ার পর থেকে সিগারেটের বিক্রি অনেকবেড়েছে।আমি অবাক হয়ে বললাম, কেন ?মিসির আলি হাই তুলতে তুলতে বললেন,মানুষের মৃত্যু বিষয়ে আছে প্রচণ্ড ভীতি। সেমৃত্যু কী জানতে আগ্রহী । এই আগ্রহের কারণেঅবচেতনভাবে মানুষ মৃত্যুর কাছাকাছি যেতেচায়। সিগারেট সেই কাছাকাছি থাকার সহজউপায় ।আমি বললাম, যুক্তি খারাপ না।ছাদে বেড়াতে চায় তাদেরকে দেখবেন এক