Rohosshomoy Vuter Golpo

মূল রচনা থেকে অংশ:

আমি বললাম, এই যা, যাঃ।কুকুরটা খুব আত্তে ঘেউ করে উঠল । সেটা ঠিক রাগের ডাক নয়, যেনভয়ে ভয়ে কোন অনুরোধ জানাচ্ছে।ছোটমামা বললেন, দেখলি! রাস্তা ছেড়ে যাবে না।আমি বললাম, ও এদিকেই আসতে চায়।আকাশে কালো মেঘ। রাস্তার দু'পাশের ধান ক্ষেতে খুব গাঢ় সবুজ রঙেরকচি কচি ধান। মেঘের ছায়ায় ধানের সেই সবুজ রঙও পাল্টে গেছে। যে-কোন সময় বৃষ্টি আসতে পারে, আমাদের তাড়াতাড়ি যাওয়া দরকার।ছোটমামার কাছে ছাতা আছে, কিন্তু এই রকম ফাকা জায়গায় ঝড়-বৃষ্টি শুরুহলে ছাতায় কোন কাজ হয় না।কুকুরটা আস্তে আস্তে কয়েক পা এগিয়ে এল আমাদের দিকে । খুব সম্ভবতসে আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইছিল, কিন্তু ওকে এগোতে দেখেইছোটমামা রাস্তায় বা-দিকের ঢালু জায়গাটা দিয়ে দৌড়ে খানিকটা নিচে নেমেগেলেন।কত ছোটখাটো ঘটনা থেকে বিরাট কাণ্ড হয়ে যায়। সেদিন ছোটমামারাস্তাটার বাঁ-দিকে না নেমে যদি ডানদিকে নামতেন, তাহলে তার জীবনটাএরকম সাংঘাতিকভাবে বদলে যেত না। কিছুই হতো না।ছোটমামার সঙ্গে সঙ্গে আমিও নিচে নেমে এলাম। ভাবলাম কুকুরটা এবারপার হয়ে যাবে। কিন্তু কুকুরটাও নেমে এল বাঁ দিকের ঢালু ধার দিয়ে।খানিকটা দূরত্ব রেখে গর-র-র গর-র-র আওয়াজ করতে লাগল।ছোটমামা বললেন, বলেছিলাম না পাগলা কুকুর। খবরদার, দৌড়বারচেষ্টা করিস না।আমার তখনও কুকুরটা পাগলা বলে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কারণ কুকুরটারমুখ চোখে রাগের ভাব নেই। গলা দিয়ে আওয়াজ করছে বটে, কিন্তু সেটাওবেশ নরমভাবে।আমরা দু'জনে কুকুরটার মুখোমুখি দীড়িয়ে রইলাম। আমাদের পেছনদিকে একটা ঝোপ। সামনে খানিকদূরে একটা নোংরা জলের ডোবা।কাছাকাছি কোন বাড়ী ঘর বা মানুষজন নেই।কুকুরটা সেইরকম আওয়াজ করতে করতে এক পা এক পা করে আমাদের১৪