Rupar Palonko

মূল রচনা থেকে অংশ:

নিষিদ্ধ বলেই তারা ভদকা এনেছে। ভদকার গন্ধ নেই।ধোকা বল নিয়ম ক্ষার জন্য এক ফৌটা খাবি নাকি রে জহিরজাস্ট ওয়ান ড্রপ । জিত বের কর। জিভের আগায় এক ফোঁটা দিয়ে দেই।জহির না-সূচক মাথা নাড়ল। মোবারক বলল, থাক কোনো দরকারনেই। তুই শুয়ে থাক। বিরিয়ানি গরম আছে। গরম গরম খেয়ে শুয়ে পড়।আমি মাথা বানিয়ে দেব।বজলু বলল, ডাক্তার যে মৃত্যুর ভয় দেখাল, কাজটা কি ঠিক করল £কথা বলার তুমি কে? মৃত্যুর মালিক হলেন আল্লাহ্‌। তিনি ইচ্ছা করলেমৃত্যু হবে। ইচ্ছা না করলে দশ বোতল ভদকা খেলেও কিছু হবে না। জহিরেরকি বাচার আশা ছিল £ ডাক্তাররা জবাব দিয়ে দিয়েছিল না ? তারপরেও বাচলকীভাবে ? আরে বাবা তুমি ডাক্তার হয়েছ বলে যা ইচ্ছা তাই বলবে ? তোমারমত ডাক্তার আমি “...” দিয়েও পুছি না। রোগ যদি হয়, অমুধ দিয়ে রোগসারাবে। বড় বড় কথা কী জন্যে ? আমি বজলুর রহমান তোমার কথার উপরেপেচ্ছাব করি।মোবারক বলল, আমি পেচ্ছাব করে দেই।আধা বোতল ভদকা শেষ হবার পরেও দেখা গেল নেশা যে ভাবে হওয়াউচিত সেভাবে হচ্ছে না। ছাড়া ছাড়া নেশা হচ্ছে। এই ভাব আসছে, এই চলেযাচ্ছে। নেশার ব্যাপারটা বড়ই অদ্ভুত। কোনো কোনো দিন কিছু খেতে হয়না, বোতল দেখেই নেশা হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো দিন যতই খাওকিছু হবে না। মাথা ঝিম ঝিম করবে, বমি ভাব হবে কিন্তু আসল যে জিনিস_“ভাব' সেটা আসবে না।বজলু বিরক্ত মুখে বলল, নেশা হচ্ছে না। ব্যাপারটা কী? মোবারক তোরঅবস্থা কী?মোবারক বিরস মুখে বলল, মনে হয় পানি খাচ্ছি। মিনারেল ওয়াটার ।এতদিন পর হাসপাতাল থেকে বন্ধু রিলিজ পেয়েছে। সেই আনন্দে যদিএকটু নেশাও না হয় তাহলে বন্ধুর ফিরে আসার দরকার কী ছিল ? বজলু দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলল, কাজকর্ম সব সময় তিনজন একত্রে করেছি। আজদুইজন, একজন থেকেও নেই৷ এই জন্যেই কিছু হচ্ছে না। বোতল শেষ করেলাভ নেই, বাদ দে।জহির তখন ক্ষীণ গলায় বলল, বেশি করে পানি মিশিয়ে সামান্য একটুদে। তিন চার ফোটার বেশি না। নিয়ম রক্ষার জন্যে খাওয়া ।৩০দরকার নেই। বাদ দে। এতবড় অসুখ থেকে উঠলি।খাই এক ফোঁটা । এক ফৌটায় আর কী হবে ?জহিরকে সামান্য দেয়া হল। সঙ্গে সঙ্গে দুই বন্ধুর নেশা ঝাঁকিয়ে এল।বজলু বলল, বোতলতো শেষ হয়ে আসছে। তিন বোতল 'ফেন্সি' নিয়ে আসি।ভদকার পরে ফেন্সি__ উড়াল দেয়া নেশা হবে । ফেন্সি জহিরও খেতে পারবে।ডাক্তার মদ খেতে নিষেধ করেছে__ ফেঙ্গি খেতে নিষেধ করেনি । তাছাড়াফেঙ্গি অযুধের মত__ কফ সিরাপ । কীরে জহির ফেন্সি খাবি একটা ?জহির বলল, না।আমোদ ফুর্তিই যদি না করলি বেঁচে থেকে লাভটা কী ? সকালে চিড়াভিজানো পানি এক গ্রাস চিরতার রস, বিকালে জাউ ভাত । রাতে এক পিসআটার রুটি । সিগারেট না, মদ না, গাঁজা না। এই ভাবে বেঁচে থেকে লাভকী__ নায়লনের একটা দড়ি কিনে নিয়ে আসি, ঝুলে পড়।মোবারক উদাস গলায় বলল, এটা মন্দ না । দুই বোতল ফেন্সি আন আরতিন গজ নায়লনের দড়ি। তরু কালার।ব্লু কালার কেন ?বজলু গন্তীর গলায় বলল, মৃত্যুর রঙ নীল । এই জন্যে ।এত কিছুর পরেও জহির এক ফোটা মুখে দিল না। দুই বন্ধুরই খুবমেজাজ খারাপ হল । সাতশ' টাকার বোতলে সাত টাকার নেশা হল না। ধরেযাওয়া নেশা একবার চটে গেলে কিছুতেই কিছু হয় না। ঝিম ভাব হয়-._ ঝিমভাব আর নেশা এক না। পর পর তিন রাত অঘ্ুমো থাকলেও ঝিম ভাব হয়।মোবারক নড়ে চড়ে বসল। চায়ের স্টলের বাইরে জহির এসে দীড়িয়েছে।ইদুরের মত চোখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। তাকে খুঁজছে বলাই বাহুল্য ।গাধার গাধা-_ সে জানে না মোবারক কোথায় বসে ? তুই পূর্ব পশ্চিম উত্তরদক্ষিণ সব দিক দেখে ফেললি_ আসল দিক দেখলি না £ তোর কি ব্েইনেসমস্যা হয়েছে ? নাকি সন্ধ্যাবেলাতেই কিছু খেয়ে এসেছিস ? দাড়ি শেভনাই। চুল উত্বৃখুক্কু। একটা শার্ট গায়ে দিয়েছে যার পাঁচটা বোতামের মধ্যেদু'টা নাই। শার্টের ফাক দিয়ে বুকের লোম বের হয়ে আছে। তুই ভেবেছিসকী £ তোর বুকের লোম দেখে মেয়েরা মৃষ্া যাবে ? কাধে আবার বাহারিব্যাগ । ব্যাগের পেট ফুলে আছে। কে জানে কী আছে ব্যাগে ।৩১