Shuvro

মূল রচনা থেকে অংশ:

চোখ ইশারা করলেন । খাবার ঘরে জন্মদিন উপলক্ষে অন্য কিছু আছে। মনে হয়মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে । কেকও থাকতে পারে । গত বছর ছিল।জাহানারা খাবার ঘরে ঢুকে অত্যন্ত বিরক্ত হলেন ৷ বিনুকে যেভাবে সব গুছিয়েরাখতে বলেছিলেন সে স্ভোবে কিছুই করে নি। কেকের চারপাশের তিনটামোমবাতি বাকা হয়ে আছে। টপটপ করে কেকের ওপর মোম গলে গলে পড়ছে ।পায়েস খাবার জন্যে লাল বাটি বের করতে বলেছিলেন, সে বের করেছে নীলবাটি। তারা তিনজন মানুষ, তিনটা বাটি বের করার কথা । সে বের করেছেচারটা । তার মানে কী £ মেয়েটা কি মনে করেছে সে নিজেও সবার সঙ্গে পায়েসখাবে! এত সাহস কেন হবে £ জাহানারা বিনুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ঠিক আছেতুমি এখন ঘুমুতে যাও । যাবার আগে পায়েসের বাটি বদলে দিয়ে যাও । লাল বাটিদিতে বলেছিলাম না ? কী বলি যন দিয়ে আগে শুনবে না £? মানুষ তিনজন আরতুমি চারটা বাটি কেন বের করলে ?বিনু মোতাহার সাহেবের দূর সম্পর্কের ভাগ্নি। সে নেত্রকোনা থেকে ঢাকাএসেছে ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা দিতে । ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেছে। সে এখনওফিরে যাচ্ছে না কারণ তার বাবা তাকে নিভে আসে নি । জাহানারা অত্যন্ত খুশি যেবিনুর ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হয়েছে৷ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া মানে প্রথম দেড়দুই বছর হলে সিট পাবে না। মেয়েটাকে এ বাড়িতে রাখতে হবে । নানান যন্ত্রণা |জাহানারা ঘন্ত্রণা পছন্দ করেন না। তাঁর ছিমছাম সংসার । এখানে ন্ত্রণার স্থাননেই।জাহানারা ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন! তার মন বেশ খারাপ্‌ হয়েছে, কারণশুত্রকে দেখে মনে হচ্ছে না জনুদিনের কেক, মোমবাতি এইসব দেখে সে খুশিহয়েছে। তার বোধহয় ঘুম পাচ্ছে। সে দু'বার হাই তুলল । মা"র দিকে তাকিয়েবলল, কেকটা খেতে ইচ্ছা করছে না মা।জাহানারা গল্তীর গলায় বললেন, খেতে ইচ্ছা না হলে খাবি না । এটা তো ওষুধনা যে জবরদস্তি করে খাওয়াতে হবে।তুমি রাগ করছ না-কি ?তুই কেক খাবি না এতে আমার বাগ করার কী আছে ?তিক আছে মা, তুমি আমাকে ছোট্ট দেখে একটা পিস দাও ।ইচ্ছে করছে শা, শুধু শুধু খাবি কেন ?তোমাকে খুশি করবার জন্যে খাব! মাকে খুশি করার জন্যে ঈশ্বরচন্দ্রবিদ্যাসাগর দামোদর নদী সাতরে পার হয়েছিলেন! আমি না হয় এক পিস কেকইখেলাম ।স্‌