Uthon Periye Dui Paa

মূল রচনা থেকে অংশ:

বোর্ড আছে, সেখানে লেখা_ “মি. জন পাউলের ঘর | নীরবতা পালন করুন । জনপাউল নীরবতা পছন্দ করেন।'পুরো ব্যাপারটা একধরনের রসিকতা কিংবা আমেরিকানদের ব্যবসা-কৌশলের একটা অংশ, তবু রাত যতই বাড়তে লাগলো মনে হতে লাগলো এইবুঝি জন পাউল এসে আমার দরজায় দাড়িয়ে বলবেন- তোমার কাছে কি আগুনআছে? আমার পাইপের আগুন নিভে গেছে।এমনিতেই ভয়ে কাঠ হয়ে আছি, তার উপর পাশের ঘরের বৃদ্ধা বিচিত্র সবশব্দ করছেন- এই খকখক করে কাশছেন, এই চেয়ার ধরে টানাটানি করছেন,গানের সিকি অংশ শুনছেন, দরজা খুলে বেরুচ্ছেন আবার ঢুকছেন। শেষ রাতেরদিকে মনে হলো দেশ-গীয়ের মেয়েদের মতো সুর করে বিলাপ শুরু, করেছেন।নিঃসঙ্গ মানুষদের অনেক ধরনের কষ্ট থাকে ।পুরোপুরি না ঘুমিয়ে কেউ রাত কাটাতে পারে না। শেষ রাতের দিকেকিছুক্ষণের জন্য হলেও ঘুম আসে । কিন্তু আমার এল না। পুরো রাত চেয়ারে বসেকাটিয়ে দিলাম । ভোরবেলা আমার ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল টেলিফোনকরলো ওয়াশিংটন সিয়াটল থেকে ৷ সে আমার আগে এদেশে এসেছে । পি-এইচ-ডি করছে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স । পরিষ্কার লজিকের ঠাণ্ডা মাথায় একটা ছেলে ।ভাবালুতা কিংবা অস্থিরতার কিছুই তার মধ্যে নেই৷ জটিল বিষয় নিয়ে গবেষণারফাকে-ফাকে সে অসম্ভব সুন্দর কিছু লেখা লিখে ফেলেছে- কপো্রনিক সুখ-দুঃখ,দীপু নাম্বার টু, হাত কাটা রবীন । প্রসঙ্গের বাইরে চলে যাচ্ছি, তবু বলার লোভসালাতে পারছি না। জাফর ইকবালের লেখা পড়লে ঈর্ষার সুক্্ম খোচা অনুভবকরি। এই ক্ষমতাবান প্রবাসী লেখক দেশে তার যোগ্য সম্মান পেলেন না, এইদুঃখ আমার কোনোদিন যাবে না।মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ইকবাল টেলিফোন করে খাস ময়মনসিংহেরউচ্চারণে বললো- দাদাভাই কেমন আছো?আমি বললাম, তুই আমার টেলিফোন নাম্বার কোথায় পেলি?আমেরিকায় টেলিফোন নাম্বার পাওয়া কোনো সমস্যা না। তুমি কেমন আছোশ০2তোর কাছে ডলার আছে?তোমাকে একশ ডলারের একটা ড্রাফট পাঠিয়ে দিয়েছি। আজই পাবে।একশ ডলারে হবে না। তুই আমাকে একটা টিকিট কেটে দে আমি দেশেলে যাবো!আমার কথায় সে বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না । সহজ গলায় বললো, যেতে৯৭)