মূল রচনা থেকে অংশ:
বুড়ো ওকের পাশে বসে পড়ল ও, সামান্য ফুঁপিয়ে উঠে কুঁকড়েশুয়ে পড়ল হাত-পা বুকের কাছে নিয়ে । বুঝতে পেরেছে, বাবা-মাকেউ আসবে না। কেউ জানেই না ও যে হারিয়ে গেছে।খামোকাই অভিমান হচ্ছে ওর মা-বাবা-নিনির ওপর । অসাড় হয়েআসছে শরীর, কীপছে ঠক-ঠক করে | ও জানে, জঙ্গলে মস্ত সববাঘ-ভালুক, হাতী-নেকড়ে-সিংহ থাকে । আর একটু আধারহলেই, গন্ধ শুঁকে এসে হাজির হবে_ চিবিয়ে খেয়ে ফেলবেওকে | কেউ জানতেই পারবে না, আজ রাতের মধ্যেই ও হজমহয়ে যাবে বাঘের পেটে । চোখ বুজে কতক্ষণ শুয়ে ছিল বলতেপারবে না, হঠাৎ চোখ মেলেই দেখতে পেল, টিলার ওপরছায়াভরা গ্র্যানেট পাথরের স্স্যাবে দীড়িয়ে আছে বিশাল, কালোএক ভয়ঙ্কর নেকড়ে!মুখ তুলে ওটাকে দেখেই চমকে উঠে বসল পল, চিৎকারকরতে চাইল, কিন্তু পারল নাঃ গলা শুকিয়ে কাঠ ।ওই নেকড়ের পাশেই ডাকাতের মত লম্বা এক লোক!একটা লোক... সঙ্গে মস্ত নেকড়ে?হ্যা, লোক । আর নেকড়ে!চাদের রুপালি আলোয় জবলজ্বলে চোখে নেকড়েটা দেখছেওকে । বেরিয়ে আছে সাদা, বড় বড় দাত ।ভীষণ ভয় পেল পল । স্থির হয়ে গেছে মূর্তির মত ।উপরের স্র্যাব থেকে নেমে আসছে লোকটা । পাশেইনেকড়ে । কোনও শব্দ করছে না তারা | তারপর নরম সুরে কথাবলল লোকটা । “কিচ্ছু ভয় নেই, খোকা ।'এক ছুটে এসে পলের গালে গরম নাক ঘষে দিল নেকড়ে ।হাসতে চাইল পল । কীপা দু'হাতে ধরল নেকড়ের ঘাড় ।কয়েক সেকেও পর পলকে বুকে তুলে নিজের কোটে মুড়িয়েনিল লোকটা । ঠাণ্ডা মাটি স্পর্শ করছে না পলের পা । গাছেরপাশবিক-১ ১৫
Recent Comments