মূল রচনা থেকে অংশ:

তারপর ভাড়া করে সিএনজিতে তিনজন ফিরল। তিনজনেরই মুখ গন্তীর। রহিমার মাচোখে পানি। বাবার নতুন কেনা গাড়ির ইঞ্জিন বসে গেছে। ড্রাইভার ইসমাইল গাড়ি ঠেলেনিয়ে গেছে গ্যারেজে।যাই হোক বাঘের বাচ্চা ইঞ্জিন ঠিক করা হয় নি। যে টাকায় বাবা তার ইউনিভার্সিটিরপ্রক্টরের কাছ থেকে গাড়ি কিনেছেন, তার কাছাকাছি টাকা লাগছে ইঞ্জিন সারতে। এইটাকা বাবার কাছে নেই। গাড়ি এখন বাসায়। ড্রাইভার ইসমাইল রোজ এই গাড়িকে ঝাঁড়-পোছ করে। সপ্তাহে একদিন গাড়ির গোসল হয়। নিজের টাকায় সে একটা এয়ারফেশনারকিনে গাড়িতে লাগিয়েছেন। নষ্ট গাড়ি আমাদের বাসায় মহা যত্বে আছে। রহিমার মাকেপ্রায়ই সেজেগুজে নষ্ট গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকতে দেখা যায়।এখন গাড়ির ড্রাইভার ইসমাইল সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে মূল গল্পে চলে যাব।ইসমাইলআমাদের সাম্প্রতিক অন্তর্ভুক্ত পারিবারিক সদস্যের একজন ইসমাইল। বাড়িনেত্রকোনার ধুন্দল গ্রামে। শ্যাওরাপাড়া থানা। অতি ধার্মিক। ফজরেরে নামাজের পরকোরান পাঠ দিয়ে সে দিন শুরু করে। কোনো নামাজের ওয়াক্তে আজান না দিলেও সেমাগরিবের আজান দেয়। প্রায়ই শোনা যায় সে রোজা।বাসার কিছু কাজকর্মে সে সাহায্য করে। যেমন বাজার করা, উঠান ঝাঁট দেয়া। টবেপানি দেয়া। তার একটি কর্মদক্ষতায় ভাইয়া মুগ্ধ। ইসমাইল একাই একটা মুরগি জবেহকরতে পারে। ছুই হাঁটুতে মুরগির পা চেপে ধরে এই কাজটি সে করে৷রহিমার মা ইসমাইলের কর্মকান্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ভাইয়ার সাথে এইবিষয়ে সে মতবিনিময়ও করে। যেমন একদিন শুনলাম, সে ভাইয়াকে বলছে, লোকটাভাবের মধ্যে আছে। মেয়েছেলে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে। মাথা ঘুরিয়ে নেয়।ভাইয়া বলল, মওলানা মানুষ এটাই তো স্বাভাবিক