মূল রচনা থেকে অংশ:
১৪“তা তো বটেই।”“আমিও ওই পেটের ধর্ম পালন করতেই বিপদ ঘাড়ে করে এই বাড়িতেঢুকেছিলুম মদন তপাদারের হারানো বাক্সটার খোঁজে । কড়ার ছিল, বাক্সটা উদ্ধার করতেপারলে হাজার পাঁচেক টাকা পাওয়া যাবে ।”মন্টুরাম কিছুক্ষণ হাঁ করে সুধীরের মুখের দিকে চেয়ে থেকে বললেন, “কেমদন তপাদার? আর কীসেরই বা বাক্স, এসব আবোল তাবোল হেয়ালি বলে পার পাবেভেবেছ?”সুধীর হাতজোড় করে বলে, “আজ্ঞে, অপরাধ নেবেন না। এসব আমার কথানয়। আমাকে যেমন বলা হয়েছিল, তেমনই বলছি।”“হেয়ালি ছেড়ে ঝেড়ে কাশো তো বাপু।”“কাশছি, কাশছি। শুনেছিলুম যেন, বছর দশেক আগে জাদুকর মদন তপাদারএক সন্ধেবেলায় আপনার বাড়িতে এসে হাজির হয়েছিলেন।”“বলি, মদন তপাদারটা কে বটে হে? নামটা জীবনে শুনেছি বলেই তো মনেহচ্ছে না।”“আজ্ঞে, তিনি ধনপতি বা হুডিনি নন, নিতান্তই গেঁয়ো আর গরিব একজাদুকর । গাঁয়েগঞ্জে, হাটে-বাজারে ঘুরে-ঘুরে ম্যাজিক দেখাতেন। পসার টসার তেমনছিল না। হতদরিদ্র অবস্থা। হেঁড়া পাতলুন, তালি দেওয়া জামা, তাপ্সি মারা জুতো, এইছিল তাঁর পোশাক । তবে একটা টুপি পরতেন । তাঁর ধারণা ছিল, টুপি পরলে বোধহয়কেস্টবিষ্টুর মতো দেখায়। রোগা, সিড়িঙ্গে চেহারার মানুষ, মনে পড়ছে কি কর্তা?”“না হে বাপু, মনে পড়ছে না। মনে পড়ার কথাও নয়। ওরকম বিটকেলচেহারার কোনও লোককে জীবনে দেখিনি।”সুধীর উদাস গলায় বলে, “আপনি যদি বলেন তো তাই । তবে কিনা কালোবাবুঅন্য কথা বলেন।”“কালোবাবুটা আবার কে?”