মূল রচনা থেকে অংশ:
মনে এলো না। এই অসম্ভব রূপবতী মেয়েটিকে সে কী বলবে?“ভাইয়া বাজারে গেছে, এসে পড়বে । আপনি বড় ঘরে বসুন__ চাপাঠিয়ে দিচ্ছি।”ফিরোজ বড় ঘরের দিকে রওনা হলো। আচ্ছানের মতো, এবং সেমনে করতে পারল না মেয়েটির গায়ে শাড়ি ছিল, না সালোয়ার-কামিজছিল। মেয়েটির চুল কি বেণী-বাঁধা ছিল, না খোলা ছিল। তার মুখটি কিগোলাকার, না লম্বাটে । কিছুই মনে নেই। শুধু মনে আছে একটি তুলি দিয়েআঁকা মুখ সে দেখে এসেছে। যে-শিল্পী ছবিটি একৈছেন তাঁর বাস এপৃথিবীতে নয়।_অন্য কোনো ভুবনে ।রাতে খাবার সময় আজমল সহজ স্বরে বলল, নাজের সঙ্গে তোর দেখাহয়েছে, তাই না? নাজ বলছিল ।ফিরোজ কিছু বলল না। আজমল বলল, ও কিছুতেই তোর সামনেআসতে চাচ্ছিল না। দেখাটা সে-জন্যেই এমন হঠাৎ হয়েছে।আসতে চাচ্ছিল না কেন?লজ্জা। ওর পোলিওতে একটা পা নষ্ট। এই লজ্জায় সে কারো সামনেপড়তে চায় না।আজমলের মুখ কঠিন হয়ে গেল। সে রুক্ষ স্বরে বলল, পৃথিবীর সমস্তলজ্জা তার মধ্যে। শুধু তোর সামনে কেন, কারো সামনেই সে যায় না।সমস্ত রাত ফিরোজ এক ফোঁটা ঘুমতে পারল না। এত কষ্টের রাততার জীবনে আসে নি। এবং ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটল পরদিন দুপুরে ।সে এক-একা শিয়ালজানি খালের পাড় ধরে হাঁটতে গেল। এবং তারএক ঘণ্টার মধ্যেই চার-পাঁচ জন লোক তাকে ধরাধরি করে নিয়ে এল।তার চোখ লাল টকটক করছে। দৃষ্টি উদৃভ্রান্ত। মুখ দিয়ে ফেনা ভাঙছে!কথাবার্তা অসংলগ্ন । মাঝে-মাঝে বিকট স্বরে চেচিয়ে উঠছে এবং দৌড়েপালিয়ে যেতে চেষ্টা করছে।নিশীথিনী 2] ১৪
Recent Comments